রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ
আলোচনায় সমাধান খুঁজতে ইরানে হামলা বন্ধ
- টানা দ্বিতীয় রাতের মতো ইরানে হামলা স্থগিত
- মধ্যপ্রাচ্যে হামলা করেনি তেহরান
- ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিনিদের হতাশা বাড়ছে
- মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর বৈঠক
- হরমুজ পরিচালনা নিয়ে ইরান-ওমান বৈঠক
- প্রণালি নিয়ে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেনের সম্ভাব্য আলোচনা
- তেলের দাম শত ডলারের নিচে নেমেছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগের জন্য আরও সময় দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টানা দ্বিতীয় রাতের মতো ইরানে হামলা স্থগিত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
স্থানীয় সময় রবিবার ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এ কথা বলেছেন।
তার দাবি, প্রেসিডেন্ট ‘আলোচনাকে কিছুটা সময় দিচ্ছেন, কিছুটা সুযোগ দিচ্ছেন’।
একইদিন ইরানের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্রও জানিয়েছেন, তেহরান অঞ্চলজুড়ে ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলা স্থগিত করেছে।
জুনে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের হামলা এবং পাল্টাপাল্টি আক্রমণের পর এই বিরতি দেওয়া হলো।
ট্রাম্প আপাতত উত্তেজনা আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াল্টজ আরেক সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে বলেছেন, ‘আমি মোটেও এতটা নিশ্চিত করে বলব না। প্রেসিডেন্ট সব ধরনের বিকল্পই খোলা রেখেছেন।’
বিমান প্রতিরক্ষার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা বিপজ্জনকভাবে এসব অস্ত্রের মজুত নিঃশেষ করে দিতে পারে বলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন—নিউইয়র্ক টাইমসের এমন প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করেন ওয়াল্টজ।
তার ভাষ্য, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনীর... এই অভিযান যতটা কার্যকরভাবে চালানো প্রয়োজন, তার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই রয়েছে।’
রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এর আগে তিনি নিজের মালিকানাধীন সামাজিকমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে কম্পিউটারে তৈরি কিছু ছবি প্রকাশ করেন। এতে মার্কিন সামরিক বিমানকে ইরানের জাহাজ ও খার্গ দ্বীপে বোমা হামলা চালাতে দেখা যায়।
যুদ্ধ পঞ্চম মাসের দিকে এগিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রে এটি এখনো ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়। সিবিএস/ইউগভের নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এই সংঘাত নিয়ে হতাশ। মাত্র ১৯ শতাংশ আশাবাদী।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠই ইরান ও লেবাননের।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকেদিকে, ইরান এবং ওমান শুক্র ও শনিবার তেহরানে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েক দফা কারিগরি আলোচনা করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা আবারও বেড়ে যায়। যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার পথেও এটি এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ অবসানে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। তবে ১৩ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বাহিনী তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে বিমান হামলা শুরু করে এবং দেশটির বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করে।
এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এতে চার মার্কিন সেনা নিহত হন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটিতে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা করবেন। তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও অন্যান্য জরুরি পণ্য পরিবহনের জন্য এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
স্ট্রিটিং বিবিসিকে বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও অবাধ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান পুরোপুরি এক।’
চলতি সপ্তাহের শুরুতে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। এতে মে মাসের পর প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছায়। তবে, পাল্টাপাল্টি হামলা থামায় এটি আবার কিছুটা কমে গেছে।




