হাশ মানি মামলায় ফেডারেল আদালতেও রেহাই মিলল না ট্রাম্পের

ফেডারেল আদালত থেকে আপাতত রেহাই না মিললেও ট্রাম্পের আইনি লড়াই থামছে না।
নিউইয়র্কের বহুল আলোচিত ‘হাশ মানি’ মামলায় আবারও বড় আইনি ধাক্কা খেলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মামলাটি নিউইয়র্কের স্টেট আদালত থেকে ফেডারেল আদালতে সরিয়ে নিয়ে নিজের দণ্ড বাতিলের যে চেষ্টা করেছিলেন, শুক্রবার ২৮ আগস্ট তা নাকচ করে দিয়েছেন ফেডারেল বিচারক অ্যালভিন কে. হেলারস্টেইন। ফলে ট্রাম্পের বহুল আলোচিত মামলাটি আপাতত নিউইয়র্কের স্টেট আদালতেই থাকছে। ফেডারেল আদালতের মাধ্যমে দণ্ড বাতিলের যে আইনি কৌশল নিয়েছিলেন ট্রাম্প, শুক্রবারের সিদ্ধান্তে সেই পথও আপাতত বন্ধ হয়ে গেল।
ট্রাম্পের আইনজীবীদের দাবি ছিল, প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক দায়মুক্তি-সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের আলোকে মামলাটি ফেডারেল আদালতে নেওয়া উচিত। তাদের যুক্তি ছিল, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মামলার কিছু বিষয় সংশ্লিষ্ট এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার কারণে তার দণ্ড বাতিলের সুযোগ রয়েছে।
তবে বিচারক হেলারস্টেইন সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তার মতে, হাশ মানি মামলার মূল কর্মকাণ্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ ছিল না; বরং তা ছিল তার ব্যক্তিগত আচরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ফলে সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট যে সাংবিধানিক দায়মুক্তি পেতে পারেন, তা এই মামলায় প্রযোজ্য নয়।
৩৪টি ফৌজদারি অভিযোগে দোষী ট্রাম্প
২০২৪ সালের মে মাসে ম্যানহাটনের একটি জুরি ট্রাম্পকে ৩৪টি ফৌজদারি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। মামলাটি ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে দেওয়া ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার অর্থ এবং সেই অর্থের হিসাব গোপন রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে।
ট্রাম্প শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার অংশ।
পরে তাকে কারাদণ্ড বা জরিমানা না দিয়ে শর্তহীন অব্যাহত দেওয়া হয়। অর্থাৎ তাকে জেল, জরিমানা বা অন্য কোনো শাস্তিমূলক বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হয়নি। তবে তার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড বহাল রয়েছে।
ফেডারেল আদালতে যাওয়ার চেষ্টা কেন ব্যর্থ?
ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, প্রেসিডেন্টের দায়মুক্তি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর মামলাটি নতুন করে ফেডারেল আদালতে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
কিন্তু বিচারক হেলারস্টেইনের মতে, ট্রাম্পের আইনজীবীরা যথাসময়ে ফেডারেল আদালতে মামলাটি নেওয়ার বিষয়টি সামনে আনেননি। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তারা প্রথমে নিউইয়র্কের স্টেট আদালতেই দণ্ড বাতিলের চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি অনুকূলে না যাওয়ায় ফেডারেল আদালতে যাওয়ার পথ বেছে নেওয়া হয়।
বিচারকের দৃষ্টিতে, এটি ছিল মূলত একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। তাই পরে সেই কৌশল পরিবর্তন করে ফেডারেল আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়ার জন্য যথেষ্ট আইনি কারণ দেখাতে পারেনি ট্রাম্পের দল।
ট্রাম্পের সামনে এখন দুই আইনি লড়াই
ফেডারেল আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে নিউইয়র্কের হাশ মানি মামলাটি ফেডারেল ব্যবস্থায় সরিয়ে নেওয়ার পথ আপাতত বন্ধ হয়ে গেল। একই সঙ্গে দণ্ড বাতিলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলো।
তবে এখানেই ট্রাম্পের আইনি লড়াই শেষ হচ্ছে না। তার আইনজীবীরা ফেডারেল আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি নিউইয়র্কের স্টেট আদালতের আপিল প্রক্রিয়াতেও ৩৪টি ফৌজদারি অপরাধের দণ্ড বাতিলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অর্থাৎ, ট্রাম্পের সামনে এখন একসঙ্গে দুটি আইনি লড়াই—একদিকে ফেডারেল আদালতের দরজা খোলার চেষ্টা, অন্যদিকে নিউইয়র্কের আদালতে বহাল থাকা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড মুছে ফেলার প্রচেষ্টা।
ফেডারেল আদালত থেকে আপাতত রেহাই না মিললেও ট্রাম্পের আইনি লড়াই থামছে না। নিউইয়র্কের ‘হাশ মানি’ মামলা এখনো তার রাজনৈতিক ও আইনি জীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়ে গেছে।







