শিশুদের আসক্ত করার অভিযোগ নিষ্পত্তিতে মেটাকে গুনতে হচ্ছে ১৮ বিলিয়ন ডলার

ছবি: রয়টার্স
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম শিশু-কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর ও আসক্তিকর হয়ে উঠেছে— এমন অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে টেক জায়ান্ট মেটা। বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে চলমান মামলার মধ্যেই মেটা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অঙ্গরাজ্যের মধ্যে বিশাল এই সমঝোতার ঘোষণা আসে।
শিশুদের সুরক্ষা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলা আইনি লড়াইয়ে এটি অন্যতম বড় আর্থিক নিষ্পত্তি।
মেটার এই সমঝোতার ফলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসছে না। তবে তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটি নির্ধারণে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী দশক জুড়ে মেটাকে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হতে পারে। সেইসঙ্গে শিশু-কিশোরদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে।
মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে শিশু-কিশোররা দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে থাকে এবং একপর্যায়ে অতিরিক্ত ব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়ে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগও রয়েছে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ স্বীকার করেনি মেটা।
সমঝোতার অংশ হিসেবে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার ব্যবহারের সীমা চালু করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ব্যবহার বন্ধ রাখার ব্যবস্থা থাকবে। অভিভাবক চাইলে এসব সীমা পরিবর্তন বা অনুমোদন করতে পারবেন।
স্কুল চলাকালীন সময়ে নোটিফিকেশন সীমিত করা, বয়স যাচাই আরও শক্তিশালী করা এবং শিশুদের বয়স-অনুপযোগী কনটেন্ট থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থাও নিতে হবে।
নতুন ব্যবস্থায় বাবা-মায়ের জন্য আরও সহজ ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা থাকবে। কিশোরদের অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা, ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং বয়সভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিশুদের সামাজিক তুলনার ওপর চাপ কমাতে পোস্টে ‘লাইক’ বা প্রতিক্রিয়ার সংখ্যা দেখানোর ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আসতে পারে।
এই সমঝোতার মধ্য দিয়ে অকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে চলা বহুল আলোচিত মামলাটি শেষ করার পথ তৈরি হয়েছে। মামলাটি শুরু হয়েছিল শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষতি, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব এবং শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তবে সমঝোতাটি কার্যকর হতে এখনো আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।
মেটার জন্য এটি শুধু বিলিয়ন ডলারের আর্থিক চাপ নয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম কীভাবে কিশোরদের জন্য পরিচালিত হবে, তাতেও বড় পরিবর্তনের সূচনা। শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখার প্রতিযোগিতা এবার পৌঁছেছে আদালতের কাঠগড়ায়, আর সেই আইনি লড়াইয়ের মূল্য মেটাকে দিতে হচ্ছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারে।






