আগামীর সময়

‘মজা করতে’ খারগ দ্বীপে আবার হামলা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

‘মজা করতে’ খারগ দ্বীপে আবার হামলা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

সংগৃহীত ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে পুনরায় হামলার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একইসঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, তেহরান এই পরিস্থিতির জন্য পাল্টা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এনবিসি নিউজকে শনিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের তেল বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র খারগ দ্বীপের সামরিক স্থাপনাগুলোর বড় অংশ ইতিমধ্যে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে। তিনি দ্বীপে আরও হামলার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘মজা করার জন্যই হয়তো আমরা এটিকে আরও কয়েকবার আঘাত করতে পারি।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির একটি বিপজ্জনক মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। কারণ এর আগে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তারা কেবল ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত করছে, জ্বালানি অবকাঠামোতে নয়।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সাফ জানিয়েছেন, দেশটির কোনো জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে তেহরান তার কড়া জবাব দেবে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ এবং দুবাইয়ের কাছাকাছি এলাকা ব্যবহার করে খারক দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। আরাগচি একে অত্যন্ত ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ইরান ভবিষ্যতে পাল্টা হামলা চালানোর সময় জনবসতিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত তিনটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মধ্য ইরানের ইসফাহান শহরের একটি কারখানায় মার্কিন হামলায় ১৫ জন শ্রমিক নিহতের প্রতিশোধ হিসেবে একে ‘প্রথম ধাপের পাল্টা আঘাত’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বিশ্বের যেসব দেশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল গ্রহণ করে, তাদেরই এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এই কাজে তাদের অনেক সাহায্য করবে।’

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সরকারি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইরানের নাগরিক।

    শেয়ার করুন: