পুলিশ-সাংবাদিক, কে শোনে কার কথা!

ছবিঃ আগামীর সময়
আনুমানিক ৬০০ বর্গফুটের একটি কক্ষ। চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনের সেই কক্ষটি ব্যবহার হয় সিএমপির সম্মেলন কক্ষ হিসেবে। সেখানে প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
সংবাদ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতাই সার। সিএমপি কমিশনার কী বলেছেন বা বলতে চেয়েছেন আর সাংবাদিকরা কী জানতে চেয়েছেন, তার অধিকাংশই বোঝেননি অনেকেই। হইচই, চেঁচামেচি, বিশৃঙ্খলায় মাঝে মাঝে অসহায়বোধ করেন সিএমপি কমিশনার। অন্য পুলিশ কর্মকর্তাদেরও একই অবস্থা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে শুরু হয় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সংবাদ সম্মেলন, যিনি গতকাল বুধবার যোগ দিয়েছেন এ পদে। অনুষ্ঠান শুরুর ১৫-২০ মিনিট আগ থেকেই জমায়েত হতে থাকেন সাংবাদিকরা। একপর্যায়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় ‘অপরিসর’ কক্ষটি। ভিডিও ক্যামেরার ট্রাইপডসহ আনুষাঙ্গিক সরঞ্জাম স্থাপন, দৃশ্য ধারণে ছোটাছুটি, মোবাইলে ভিডিও করা; সব মিলিয়ে ভিন্ন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় কক্ষজুড়ে।
সিএমপির জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নাস্তার প্যাকেট হিসেব করলে প্রায় ১৫০ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। মোট ১৪০টি নাস্তার প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। এর বাইরে সেই প্যাকেট নেননি ১০ থেকে ১২ জন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সিএমপি কমিশনারসহ ৫ কর্মকর্তা। আর সাংবাদিকদের কাতারে পুলিশ সদস্য ছিলেন প্রায় ২৫ জন।
সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন চিৎকার-চেঁচামেচির কারণে বারবার বক্তব্য বন্ধ রেখে সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় কমিশনারকে। এসময় কয়েকবার হাত তুলে সাংবাদিকদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন একজন অতিরিক্ত কমিশনার। ‘এ অবস্থায় সিএমপি কমিশনার কী বলেছিলেন, নির্বিঘ্নে তা শোনার উপায় ছিল না,’- বলছিলেন সংবাদ সম্মেলনের সামনের সারিতে বসা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশের আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি।
সংবাদ সম্মেলনে কাঁচাবাজারের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, ‘কোনো বক্তব্য শুনতে পেলাম না। এত চিৎকার, দৌড়াদৌড়ি, মোবাইল নিয়ে টানাহেঁচড়া- কী এক বিশ্রি অবস্থা! এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পুলিশ কর্মকর্তারা দেখলেন সাংবাদিকতার অবস্থা। এটা আমাদের জন্য খুবই বিব্রতকর।’ তার ভাষ্য, ‘স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের উচিৎ তার কর্মীদের শৃঙ্খলা, আচরণ শেখানো। সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এভাবে বাজার বানিয়ে ফেলার প্রবণতা চলতে দেওয়া যায় না।’
‘কমিশনার স্যার বক্তব্য দিচ্ছেন আর কিচিরমিচির করছেন সবাই। হাত উঁচিয়ে থামতে বলছেন অ্যাডিশনাল কমিশনার স্যার। মঞ্চের সামনে ঝগড়া শুরু করে দিলেন দুজন। আমি গিয়ে থামালাম। এটা আমাদের জন্য এক বিব্রতকর পরিস্থিতি। আরও সুন্দর হতে পারতো অনুষ্ঠানটা। অনুষ্ঠানের পর আমাদের কাছে এসে এত বিশৃঙ্খলা কেন জানতে চাইলেন কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক। কী জবাব দেব আমরা! আমরা তো আর সাংবাদিকদের শাসন করতে পারি না,’- বলছিলেন সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া সিএমপির এক কর্মকর্তা।
আগে সিএমপি কমিশনারের সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হতো দামপাড়া পুলিশ লাইনের মাল্টিপারপাস শেডে, যেটির আয়তন আজকের কক্ষটির থেকে অন্তঃত ১০ গুণ বড়। এবার এতো ছোট কক্ষে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে প্রশ্ন করে উত্তর পাওয়া যায়নি সিএমপি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে।
সার্বিক বিষয়ে সিএমপির সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশীদ বলেছেন, ‘কমিশনার স্যার সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে সহযোগিতা চেয়েছেন সাংবাদিকদের থেকে। এর বেশি আমার বলার নেই।’
‘চাঁদাবাজের কোনো দল নেই’
চাঁদাবাজদের প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কে কোন রাজনৈতিক দলের সেটা বিবেচনায় নেওয়া হবে না বলে আজকের সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
চাঁদাবাজি প্রতিরোধের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘চাঁদাবাজের কোনো দল নেই। একদম জিরো টলারেন্স, কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করা হবে না।’
‘আমি কথা বলতে চাই না, কাজ করে দেখাতে চাই’,- বলছিলেন সিএমপি কমিশনার।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ প্রমুখ।

