ইমিগ্রেশনের উপর ট্রাম্পের খড়গ, সরকারি সহায়তা নিলে গ্রিনকার্ড নয়

গ্রিন কার্ডধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়।
অভিবাসীদের গ্রিনকার্ড পেতে নতুন বিধিনিষেধ চালু করলো ট্রাম্প প্রশাসন। সরকারি সেবাগ্রহনকারিরা গ্রীনকার্ড পেতে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। যেমন— মেডিকেইড,ফুড স্ট্যাম্প কিংবা হাউজিং সুবিধা গ্রহনকারিদের গ্রিনকার্ড প্রাপ্তি ও নাগরিক হবার সুযোগ সীমিত হবে। আর এ সিদ্দান্ত কার্যকর হয়েছে গত শুক্রবার থেকে। যদিও ২২টি স্টেট এ নীতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিনকার্ড হোল্ডার) হওয়ার চেষ্টায় থাকা অভিবাসীদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে যদি তাঁরা কিংবা তাঁদের নির্দিষ্ট কোনো আত্মীয় মেডিকেইড ফুড স্ট্যাম্প বা এমনকি শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তার মতো সরকারি সুবিধা গ্রহণ করেন।
গ্রিন কার্ডধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই মর্যাদা লাভ করা নাগরিকত্ব পাওয়ার পথে চূড়ান্ত ধাপ। আইনি অভিবাসন সীমিত করা এবং মানুষকে কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে নাম লেখানো থেকে নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া সর্বশেষ পদক্ষেপ হলো এই নীতি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে প্রশাসন একই ধরনের একটি নীতি চালু করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আদালতের আদেশে তা আটকে দেওয়া হয়। এই সপ্তাহে ২২টি অঙ্গরাজ্য এই নতুন নীতিটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তারা এটিকে একটি "বিপর্যয়কর" পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে, যা পরিবারগুলোকে একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করবে। হয় মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়ক সরকারি সহায়তা ত্যাগ করা, অথবা ভবিষ্যতে দেশ থেকে বহিষ্কারের (ডিপোর্টেশন) ঝুঁকির মুখে পড়া।
ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, এই নীতির ফলে প্রায় প্রায় ১০ মানুষ সরকারি সহায়তা কর্মসূচি থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিতে পারেন এই নীতির আওতায়। এতে সরকারের লাখ লাখ ডলার সাশ্রয় হবে।
"পাবলিক চার্জ" বা সরকারি খরচের বোঝা বিষয়ক নিয়মটি কি?
১৮৮২ সাল থেকে ফেডারেল সরকার অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাওয়া থেকে বিরত রেখে আসছে যদি তাঁদের এমন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় যিনি ভবিষ্যতে "পাবলিক চার্জ" বা সরকারি খরচের বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারেন—অর্থাৎ জীবনধারণের জন্য সরকারের ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন। অভিবাসন কর্মকর্তাদের এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বয়স, স্বাস্থ্য এবং আর্থিক অবস্থার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অভিবাসন কর্মকর্তারা এতদিন মূলত প্রাতিষ্ঠানিক দীর্ঘমেয়াদী সেবা এবং নগদ অর্থ সহায়তা কর্মসূচির (যেমন—'টেম্পোরারি অ্যাসিস্ট্যান্স ফর নিডি ফ্যামিলিজ' বা অভাবী পরিবারের জন্য সাময়িক সহায়তা, যার মাধ্যমে সন্তানসহ স্বল্প আয়ের পরিবারকে সরাসরি অর্থ দেওয়া হয়) ব্যবহারকেই বিবেচনায় নিতেন। কিন্তু তারা সাধারণত 'ফুড স্ট্যাম্প' বা 'মেডিকেইড'—এর মতো কর্মসূচিগুলোর ব্যবহার বিবেচনায় নিতেন না; কারণ এগুলোর মাধ্যমে পরিবারকে সুবিধা দেওয়া হলেও সরাসরি নগদ অর্থ দেওয়া হয় না।
ট্রাম্প প্রশাসন কীভাবে নিয়মগুলো পরিবর্তন করছে?
নতুন নীতিটি সেই সব সরকারি সুবিধার পরিধি বাড়াচ্ছে যা অভিবাসন কর্মকর্তারা বিবেচনায় নিতে পারবেন—যখন তারা কোনো ব্যক্তিকে ফেডারেল সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করবেন। তবে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের আবেদন প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে ঠিক কোন কোন সরকারি সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হবে, সে বিষয়ে নীতিটিতে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।
গত মাসে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, কর্মকর্তারা "আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া সরকারি সুবিধা" যেমন আবাসন সহায়তা, ফুড স্ট্যাম্প, কলেজের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং অন্যান্য অনুরূপ সুবিধা—বিবেচনায় নিতে পারবেন। অভিবাসন নীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাবের কারণে কর্মকর্তারা আরও বিস্তৃত পরিসরের সরকারি সহায়তা—যার মধ্যে মেডিকেইড এবং নির্দিষ্ট কিছু বিনামূল্যে স্কুল মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে—বিবেচনায় নেওয়ার ক্ষমতা পেয়ে যেতে পারেন।
র্নিদলীয় থিংক—ট্যাঙ্ক 'মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট'—এর ইউএস ইমিগ্রেশন পলিসি প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক জুলিয়া জেলাট বলেন, "এটি সত্যিই একটি বড় পরিবর্তন। এখন বিষয়টি ব্যাখ্যার ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এটি নিশ্চিতভাবেই অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও বেশি ভুল বোঝাবুঝি ও ভয়ের সৃষ্টি করবে।"
তথ্যসূত্র—নিউইয়র্ক টাইমস



