আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জিতলেও কি ট্রাম্প বাধার সৃষ্টি করতে পারেন?

৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রায় নিশ্চিত বিজয়ের সম্ভাবনা বিরোধীদল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। নির্বাচনের আর ১২ দিন বাকী। ইতেমধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যাপক ভোটার জালিয়াতির ভিত্তিহীন দাবি তুলছেন। ডেমোক্র্যাটরা আশঙ্কা করছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফেডারেল সরকার বড় ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারে। ৩ নভেম্বরে নির্বাচনে বিজিতরা ৩ জানুয়ারিতে ক্যাপিটল হিলে আসবেন। বসবেন কংগ্রেসে। ডেমোক্র্যাটরা এই নির্বাচনে জয়ী হলে, রিপাবলিকানরা কি তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করতে বাধা দিতে পারে? এমন প্রশ্ন এখন থেকেই উঠতে শুরু করেছে। জানুয়ারি মাসে কংগ্রেসের নতুন নেতৃত্ব আসার সময়টিতে হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে অধিকাংশ আইন বিশেষজ্ঞ মনে করেন এমনটা ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম।
জনমত জরিপ অনুযায়ী ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস) নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায়, কিছু আইনপ্রণেতা ও ভাষ্যকার ভোটের পরবর্তী একটি ভিন্ন পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্ররোচনায় কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা হয়তো নির্বাচিত ডেক্র্যোটদের দায়িত্ব গ্রহণ করতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক ব্রায়ান সি. কাল্ট বলেন নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, “এমনটা ঘটার জন্য অনেকগুলো বিষয়কে ঠিকঠাকভাবে সারিবদ্ধ হতে হবে। যা হওয়ার সম্ভাবনা আমার কাছে ক্ষীণ বলেই মনে হয়।
২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেন জয়লাভ করেেছিলেন। তখন একই কথা বলা হতো রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চাপে জোসেফ বাইডেনের জুনিয়রের জয় ইলেক্টোরাল কলেজের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করবে। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ঠিক সেটাই ঘটেছি। ট্রাম্প সর্মথকরা ক্যাপিটল হিলে আক্রমন করেছিল। এরপরও রিপাবলিকানদের একটি বড় অংশ ট্রাম্পের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে নির্বাচনী ফলাফলকে সার্টিফাই করতে সর্মথন দিয়েছিল।
২০২৬ সালেও একই ধরনের আশংকা থেকে কংগ্রেসের দুই মধ্যপন্থী সদস্য ( উভয় দলের) তাদের সহকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রম্নতি দেন। এবং বিজয়ীদের দায়িত্ব গ্রহণকে বাধাগ্রস্ত বা বিলম্বিত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করেন। নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি এবং সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রি বলেছেন, তার দল সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩রা নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে আমেরিকান জনগণের দেওয়া রায়কে ৩রা জানুয়ারি নতুন কংগ্রেসে নিশ্চিত করা। এই দিনেই পরবর্তী কংগ্রেসের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিটি অঙ্গরাজ্য তাদের নিজস্ব নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা রাখে। তারা বিজয়ী প্রার্থীদের নাম নিশ্চিত করে নির্বাচন সংক্রান্ত সনদপত্র হাউস (প্রতিনিধি সভা) ও সিনেটে পাঠিয়ে থাকে। কয়েক দশক ধরে এই সনদ প্রদানের বিষয়টি ছিল একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে ২০২০ সালের নির্বাচনের পর থেকে, কিছু অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যয়ন (সার্টিফাই) করার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন অথবা তা করতে অস্বীকৃতি জানানোর হুমকি দিয়েছেন। যদিও এসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি। তবে অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য কর্মকর্তা ও আদালতকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
ফেডারেল নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল উল্টে দেওয়ার বা তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টির প্রচেষ্টায় এটিই হতে পারে সবচেয়ে বড় সংকটময় মুহূর্ত। ডেমোক্র্যাটদের আশঙ্কা, ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে মিথ্যা দাবি প্রচার করছেন। এতে ভোট গণনা, যাচাই—বাছাই এবং ফলাফল প্রত্যয়নের প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করার একটি ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে।
যদি কোনো আসনের ফলাফল প্রত্যয়ন না করা হয়, তবে নতুন কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে সেই আসনগুলো খালি থেকে যেতে পারে, যা প্রতিনিধি সভায় ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২১ সালে, আপস্টেট নিউ ইয়র্কের একটি আসন এক মাসেরও বেশি সময় ধরে খালি ছিল, কারণ তখন নির্বাচন সংক্রান্ত একটি বিরোধ আদালতে বিচারাধীন ছিল।
কংগ্রেসে নতুন নেতৃত্বের আগমনের এই পর্যায়টি বিরোধ সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করতে পারে। যেহেতু প্রতি দুই বছর অন্তর প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস) প্রতিটি আসনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাই নতুন কংগ্রেসের শুরুতে নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ করতে হয়। বিদায়ী প্রতিনিধি পরিষদ—এবং এর নিয়ন্ত্রণকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ পক্ষ ৩রা জানুয়ারি দুপুর ১২টায় তাদের কার্যকাল শেষ করে। এবং নতুন কংগ্রেস গঠিত হয়।
এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে, যখন কেউ দায়িত্বে থাকেন না, তখন ফেডারেল আইন অনুযায়ী প্রতিনিধি পরিষদের ক্লার্কের ওপর নতুন সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করার দায়িত্ব বর্তায়। ক্লার্ক হলেন এই কক্ষের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা, যাকে স্পিকার মনোনীত করেন এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত করা হয়। আইন অনুযায়ী, ক্লার্ক কেবল সেই ব্যক্তিদেরই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবেন, যাদের নথিপত্র বা প্রমাণপত্র থেকে এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তারা অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইন মেনে যথাযথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। (নিউইয়র্ক টাইমসের সহায়তায় রিপোর্টটি তৈরি হয়েছে)



