শান্তি আলোচনার মধ্যেই হামলার হুমকি ট্রাম্পের

সংগৃহীত ছবি
হুমকি-ধমকি, টানটান উত্তেজনা, কূটনৈতিক টানাপড়েন— সব বাধা ভেঙে শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। শান্তিভূমি সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক পাহাড়চূড়ায় শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষার শান্তি আলোচনা। বোমা-ক্ষেপণাস্ত্র ফেলে মুখোমুখি বসেছে দুই দেশ। বুধবার সই হওয়া ১৪ দফার ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামের ৬০ দিনের অন্তর্বর্তী চুক্তিটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে নিয়ে যেতেই এ আয়োজন। বৈঠকে বসলেও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে সেই আগের মতোই বারুদ-মেঘের ঘনঘটা। আলোচনার মধ্যেই ইরানকে আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে বলেছেন, লেবাননে তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের (হিজবুল্লাহ) অশান্তি সৃষ্টি বন্ধ না করলে গত সপ্তাহের চেয়েও তীব্র হামলার মুখোমুখি হতে হবে ইরানকে। এতেও ভেঙে পড়েনি আলোচনা। বরং বৈঠকের ফাঁকে এসে সে ভরসায় দিয়ে যান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সাংবাদিকদের বললেন, বেশ অগ্রগতি হয়েছে আলোচনায়। রয়টার্স, বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরা।
রবিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) শুরু হয় প্রথম দফার আলোচনা। চলে ৮০ মিনিট। পরবর্তী অধিবেশন কখন শুরু হবে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, আলোচনা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে করমর্দন ও দলবদ্ধ ছবি তোলার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ইরান। বৈঠকে ইরানের দলে ছিলেন পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদুলনাসের হেম্মাতি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানিও ছিলেন।
গতকাল কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলমান আলোচনার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য এ চুক্তিতে দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বৈঠকের আগে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিসের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বৈঠকের একটি ছবি প্রকাশ করেন তিনি। বৈঠক শেষে ইগনাজিও ক্যাসিস বললেন, চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতেও সুইজারল্যান্ড ও ইরানের মধ্যে একটি বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এ সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। শুরুতে আলোচনার মূল এজেন্ডার প্রধান বিষয় ছিল তিনটি। প্রথমত, হরমুজ প্রণালি ফের উন্মুক্ত করা। দ্বিতীয়ত, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। তৃতীয়ত, বহির্বিশ্বে আটকে থাকা বা ফ্রিজ হয়ে থাকা ইরানের শত শত কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা। তবে সবগুলোকে পেছনে ফেলে ইসরায়েলের লেবানন হামলার বিষয়টিই মুখ্য হয়ে ওঠার কথা ছিল আলোচনায়। কিন্তু বৈঠক শেষে ইরানের আলোচনা দলের সদস্য হোসেন গুরবানজাদেহ জানিয়েছেন, আলোচনায় ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা এবং তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে।
গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও
ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ডিজিটাল চুক্তিটি আরও বেগবান
ও স্থায়ী রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই এ বৈঠকের আয়োজন।




