বিদায়বেলায় কভিড-১৯ নিয়ে বিস্ফোরক বার্তা তুলসি গ্যাবার্ডের

তুলসি গ্যাবার্ড- রয়টার্স
বিদায়ী মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড একগুচ্ছ গোপনীয়তা-মুক্ত নথি ও বার্তা প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, এসব নথিতে এমন তথ্য রয়েছে যা থেকে ধারণা পাওয়া যায়, কভিড-১৯-এর উৎস নিয়ে সরকারি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের (এনআইএআইডি) সাবেক পরিচালক ড. অ্যান্থনি ফাউচি এবং কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের দপ্তর (ওডিএনআই) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বচ্ছতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক বছর ধরে চলা পর্যালোচনার সময় এসব নথি গোপনীয়তার তালিকা থেকে সরানো হয়।
নথিগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কোভিড-১৯-এর উৎস নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক। বিশেষ করে ভাইরাসটি চীনের কোনো গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল, নাকি প্রাকৃতিকভাবে মানুষের মধ্যে এসেছে, সেই প্রশ্নে ফাউচির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে নতুন করে।
প্রকাশিত নথিতে চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্র-অর্থায়িত করোনাভাইরাস গবেষণার বিষয়ও উঠে এসেছে। মহামারি শুরুর পর থেকেই নানা জল্পনা-কল্পনা ও তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গ্যাবার্ডের দপ্তরের দাবি, নথিগুলোয় দেখা যায় ফাউচি এমন কিছু গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন, যাদের তথ্য ও মূল্যায়ন পরে ভাইরাসের উৎসসংক্রান্ত সরকারি প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
দায়িত্ব ছাড়ার দিন দেওয়া এক বিবৃতিতে গ্যাবার্ড বলেছেন, মহামারির সময় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে মার্কিন জনগণের ‘সত্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি’ জানার অধিকার রয়েছে।
তার অভিযোগ, কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আড়াল করেছেন, গোয়েন্দা মূল্যায়নকে প্রভাবিত করেছেন এবং গবেষণাগার থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে যেসব মতামত ছিল, সেগুলোকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন।
ওডিএনআই আরও দাবি করেছে, প্রকাশিত নথির কিছু তথ্য ২০২৪ সালে প্রতিনিধি পরিষদের করোনাভাইরাসবিষয়ক বিশেষ উপকমিটির সামনে ফাউচির দেওয়া সাক্ষ্যের সঙ্গে মিলছে না।
সেই শুনানিতে ফাউচি বলেছিলেন, কভিড-১৯-এর উৎস বা ভাইরাস গবেষণা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আলোচনার বিষয়ে তার কোনো প্রত্যক্ষ জ্ঞান ছিল না। তবে গ্যাবার্ডের দপ্তরের মতে, নতুন প্রকাশিত নথিগুলো দিচ্ছে ভিন্ন ইঙ্গিত।
এ ছাড়া গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের একাধিক হুইসেলব্লোয়ারের সাক্ষ্যের কথাও উল্লেখ করেছে ওডিএনআই। তাদের দাবি, যারা গবেষণাগার থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার তত্ত্বকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন বা এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, কর্মক্ষেত্রে চাপ, প্রতিকূল আচরণ এবং পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়েন তারা।
এসব অভিযোগের কয়েকটি আরও তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের মহাপরিদর্শকের দপ্তরে।
সূত্র: এনডিটিভি প্রোফিট




