যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি চালুর আদেশ স্থগিত করলেন আপিল আদালত

ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি আবার চালুর নির্দেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালত। ফলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচিটি বন্ধ রাখতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ বৃহস্পতিবার সরকারের জরুরি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিম্ন আদালতের দেওয়া প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেন। ওই নিষেধাজ্ঞায় ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির নিবন্ধন ১ নভেম্বর, রবিবারের মধ্যে চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান রেড ঈগল ল ডাইভারসিটি ভিসায় নির্বাচিত আবেদনকারীদের প্রতিনিধিত্ব করে। ২০২৭ অর্থবছরের ডিভি কর্মসূচির নিবন্ধন চালু না করায় গত আগস্টে প্রতিষ্ঠানটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলা করে।
আদালতের এই সিদ্ধান্তে সরকারের মূল আপিলের নিষ্পত্তি হয়নি। বরং আপিলের শুনানি চলার সময় নিম্ন আদালতের নির্দেশটি কার্যকর হওয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।
রেড ঈগলের মালিক কার্টিস মরিসন নিউজউইককে বললেন, ‘ডিভি কর্মসূচি বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে রেড ঈগল দ্রুত অন্য আইনি পদক্ষেপ নেবে।’
আদালত তার পর্যবেক্ষণে বললেন, ‘লটারি নিবন্ধন চালু না করার বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যর্থতাকে আমরা সমর্থন করি না। তবে রেড ঈগল মামলার মূল বিষয়ে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রমাণ করতে পারেনি। কারণ প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট আইনের সুরক্ষিত স্বার্থের আওতাভুক্ত নয় এবং মামলা করার আইনগত অধিকারও নেই।’
ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার ঐতিহাসিকভাবে কম—এমন দেশগুলোর নাগরিকদের প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ভিসা দেওয়া হয়।
আপিল আদালত বলেছে, ২০২৭ অর্থবছরের জন্য নিবন্ধন চালু না করে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো ব্যাখ্যাও দেয়নি। এর ফলে কার্যত কর্মসূচিটি বাতিল হয়ে গেছে।
ডিভি গ্রিন কার্ড লটারি : নিবন্ধন শুরুর পক্ষে আদালতের রায়, আপিল ট্রাম্প প্রশাসনের
২১ অক্টোবর ২০২৬
১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্টের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে এই কর্মসূচি চালু করে মার্কিন কংগ্রেস। ১৯৯০ সালের ২৯ নভেম্বর রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ আইনে সই করেন। যেসব দেশ থেকে ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কমসংখ্যক অভিবাসী গেছেন, সেসব দেশ থেকে অভিবাসন উৎসাহিত করাই ছিল এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য।
ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালু না হওয়ায় বিশ্ব জুড়ে হাজারো মানুষের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার ঐতিহাসিকভাবে কম, সেসব দেশের নাগরিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এর ফলে যোগ্য আবেদনকারীরা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে কার্যত বঞ্চিত হচ্ছেন।
সূত্র : নিউজ উইক




