বিশ্বনেতাদের আগমনে নিউইয়র্কে বাড়ছে ব্যস্ততা

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
বিশ্বনেতা, কূটনীতিক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের আগমনে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ঘিরে ব্যস্ততা বাড়ছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। চলবে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এ সময় নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, প্রতিনিধি ও সংবাদকর্মীদের বড় সমাবেশ হবে।
এরই মধ্যে জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও আশপাশের এলাকায় তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল, কূটনীতিক ও সাংবাদিকদের আনাগোনায় বদলে যাচ্ছে স্বাভাবিক কর্মদিবসের পরিবেশ। জাতিসংঘের ভেতরে চলছে সভা, ব্রিফিং ও বিভিন্ন প্রস্তুতি। বাইরে জোরদার করা হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভিআইপি চলাচল ও মোটরকেডের জন্য ম্যানহাটনের বিভিন্ন সড়কেও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ প্রস্তুতি।
এবারের সাধারণ বিতর্কে বিশ্বনেতারা যুদ্ধ ও সংঘাত, শান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন। সাধারণ বিতর্কের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, কূটনৈতিক আলোচনা ও নানা সাইড ইভেন্টও হবে। ফলে আগামী কয়েক দিন জাতিসংঘ সদর দপ্তর বিশ্বের কূটনৈতিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে।
বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ
এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের খলিলুর রহমান। ফলে সাধারণ বিতর্কসহ অধিবেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের সভাপতিত্ব থাকবে।
সাধারণ বিতর্কের বাইরে ২৩ সেপ্টেম্বর উন্নয়নের অধিকারবিষয়ক ঘোষণার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে। ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে এবং ২৫ সেপ্টেম্বর মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও মোকাবিলা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক রয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর ডারবান ঘোষণা ও কর্মসূচির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে হবে আরেকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।
ব্যস্ত সাংবাদিকরা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সাংবাদিকদের জন্যও বছরের অন্যতম ব্যস্ত সময়। প্রেস গ্যালারি, মিডিয়া বুথ, সাক্ষাৎকার, প্রেস ব্রিফিং এবং বক্তব্য সংগ্রহের পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও ধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের সংবাদকর্মীরা।
কোন নেতা কখন আসছেন, কোথায় বৈঠক হচ্ছে, কখন প্রেস ব্রিফিং হবে এবং কোন অনুষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি রয়েছে— এসব বিষয় নিয়ে চলছে প্রস্তুতি। নিরাপত্তা তল্লাশি ও প্রবেশপথে নিয়ন্ত্রণের কারণে সাংবাদিকদেরও বাড়তি সময় হাতে নিয়ে চলতে হচ্ছে।
নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের একসঙ্গে নিউইয়র্কে অবস্থানের কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তর ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভিআইপি মোটরকেড, সড়ক নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশপথে তল্লাশি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে।
আগামী কয়েক দিনে ফার্স্ট অ্যাভিনিউসহ জাতিসংঘের আশপাশের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে সাময়িক পরিবর্তন ও ধীরগতি দেখা দিতে পারে। ভিআইপি চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে ম্যানহাটনের এই অংশের চিত্র বদলে যায়। বিভিন্ন দেশের পতাকা, কূটনীতিকদের ব্যস্ততা, সাংবাদিকদের ক্যামেরা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের তৎপরতায় তৈরি হয় আলাদা পরিবেশ। এবারও ধীরে ধীরে সেই ব্যস্ততা স্পষ্ট হচ্ছে।
২২ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্ক শুরুর আগেই নিউইয়র্কে শুরু হয়ে গেছে বিশ্ব কূটনীতির ব্যস্ত সময়। আগামী কয়েক দিনে জাতিসংঘের মূল মঞ্চে বিশ্বনেতাদের বক্তব্যের পাশাপাশি বিভিন্ন বৈঠক ও কূটনৈতিক তৎপরতার দিকেও থাকবে সবার নজর।



