যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

তার মাথার পেছনে গুলির আঘাত ছিল
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডোরড্যাশের এক ডেলিভারি চালককে মাথার পেছনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ওই ডেলিভারি চালকের নাম মোহাম্মদ মাহফুজুল হক। বাংলাদেশিদের বিভিন্ন কমিউনিটি সংবাদমাধ্যমে তাকে বাংলাদেশি বলে উল্লেখ করা হয়।
ফিলাডেলফিয়া পুলিশের প্রধান পরিদর্শক স্কট স্মল জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কিংসেসিং এলাকার সাউথ ইথান স্ট্রিটের ১০০০ নম্বর ব্লকে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় ৪৩ বছর বয়সী মোহাম্মদ মাহফুজুল হককে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে। তার মাথার পেছনে গুলির আঘাত ছিল।
ঘটনাস্থলে তার চালু অবস্থায় থাকা একটি গাড়ি এবং একটি ডোরড্যাশের ডেলিভারি ব্যাগও পাওয়া যায়। মাহফুজুল হককে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১০টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর দেহের খুব কাছ থেকে রাইফেলের দুটি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে তাকে।
তদন্তকারীদের ধারণা, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় গাঢ় রঙের পোশাক ও মুখোশ পরা তিন ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তাদের কোনো ছবি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনাস্থলে চালু অবস্থায় পাওয়া গাড়িটি মাহফুজুল হকেরই ছিল বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশ ডেলিভারির ঠিকানায় গিয়ে জানতে পারে, ওই বাড়ির বাসিন্দারা ডোরড্যাশে কোনো খাবারের অর্ডার দেননি।
বাংলাদেশি কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজুল হকের বাড়ি রাজশাহীতে। দীর্ঘদিন ধরে ফিলাডেলফিয়ায় বসবাস করছিলেন তিনি। এর আগে তিনি একটি মধ্যপ্রাচ্যের খাবারের রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন। পরে খাবার ডেলিভারির কাজ শুরু করেন। তার পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী ও ১৪ বছর বয়সী এক সন্তান।
ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ডোরড্যাশের একজন মুখপাত্র জানান, তারা পুলিশের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এই কঠিন সময়ে নিহতের পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল। এই অর্থহীন হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি।’
তথ্যসূত্র : এনবিসি১০ফিলাডেলফিয়া




