ট্রাম্পের শৈশবের বাড়িটি ২০ লাখ ডলারে বিক্রি

ট্রাম্পের শৈশব কেটেছে এই বাড়িতেই।
নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকা এস্টেটস এলাকার গাছপালা—ঘেরা রাস্তায় উষ্ণ রঙের আভা ও বাদামী ইটের গাঁথুনিযুক্ত সারিবদ্ধ বাড়িগুলোর ভিড়ে টিউডর—শৈলীর বাড়িটি খুব একটা আলাদা করে চোখে পড়ে না। ৫ বেডরুমের এই বাড়িটিতেই ট্রাম্পকে পেটে ধারণ করেছিলেন তার মা। শৈশবটি তার কেটেছে এই বাড়িতেই। ওয়ারহাম প্লেসের এই বাড়িটিই ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শৈশবের আবাসস্থল। তিনি চার বছর বয়স পর্যন্ত সেখানে ছিলেন। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের প্রথম নির্বাচনের পর থেকে বাড়িটির ভাগ্য নানাভাবে বদলেছে। কখনো এটি প্রেসিডেন্টের কার্ডবোর্ড কাটআউট দিয়ে সাজানো ব্যয়বহুল এয়ারবিএনবি লিস্টিং হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ভাড়া ছিল প্রতিরাত ৭২৫ ডলার। আবার কখনো বুনো বিড়ালের আস্তানায় পরিণত হয়েছে।
রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত নথিপত্র ও ক্রেতার প্রতিনিধির তথ্য অনুযায়ী, আমূল সংস্কারের পর পাঁচটি শোবার ঘর ও তিনটি বাথরুমের এই বাড়িটি গত বৃহস্পতিবার ১১ সেপ্টেম্বও ১.৯৩ মিলিয়ন (প্রায় ১৯ লাখ ৩০ হাজার) ডলারে বিক্রি হয়েছে। ট্রাম্প পরিবার কয়েক দশক আগেই এই বাড়িটি ছেড়ে চলে গেলেও, এটি এখনও মাঝে মাঝে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
২০১৬ সালের নির্বাচনের পর মাইকেল ডেভিস নামের এক আবাসন ব্যবসায়ী বাড়িটি কেনেন এবং পরবর্তীতে 'এয়ারবিএনবি' এর মতো বাড়ি ভাড়া দেওয়ার প্ল্যাটফর্মে প্রতি রাতে ৭২৫ ডলার ভাড়ায় এটি ভাড়া দিতে শুরু করেন। বাড়িটি ট্রাম্প—সম্পর্কিত নানা স্মারক দিয়ে সাজানো হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল তাঁর সমান উচ্চতার একটি কার্ডবোর্ডের কাটআউট, বাঁধাই করা ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ এবং "দ্য আর্ট অফ দ্য ডিল" বইটির পেপারব্যাক সংস্করণ। সেখানে থাকা ফলকগুলোতে নির্দেশ করা হয়েছিল যে, এটি সম্ভবত "প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের শৈশবের শোবার ঘর" এবং এটি সেই ঘর যেখানে "সম্ভবত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের গর্ভসঞ্চার হয়েছিল।"
২০১৭ সালে 'ট্রাম্প বার্থ হাউস' নামের বাড়িটি একটি লিমিটেড—লায়াবিলিটি কর্পোরেশনের কাছে ২.১৪ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করা হয়; এই বিক্রয় প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করেছিল বিদেশি চীনা ক্রেতাদের নিয়ে কাজ করা একটি আইনি প্রতিষ্ঠান। ২০১৯ সালে নিলামের মাধ্যমে বাড়িটি বিক্রির বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, কারণ বাড়িটির অবস্থা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। অবশেষে কয়েক বছর পর মিস্টার লিন উল্লেখযোগ্য মূল্যছাড়ের বিনিময়ে বাড়িটি কিনে নেন। মিস্টার ম্যাগনি জানান, ওই সম্পত্তিতে এখন আর মিস্টার ট্রাম্পের সেখানে অবস্থানের কোনো চিহ্ন বা উল্লেখ নেই।
বিক্রেতা টমি লিন—যিনি একজন রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার। তিনি বাড়িটি দীর্ঘ সময় ধরে খালি পড়ে থাকার পর উল্লেখযোগ্য ছাড়ে ৮ লাখ ৩৫ হাজার ডলারে কিনেছিলেন। আধুনিক সুযোগ—সুবিধাসম্পন্ন রান্নাঘর ও ‘হেরিংবোন’ নকশার মেঝেসহ বাড়িটি নভেম্বরে বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হয়। তখন লিন এর দাম চেয়েছিলেন ২.৩ মিলিয়ন ডলার।
ক্রেতার পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। ক্রেতার প্রতিনিধিত্বকারী ‘রি/ম্যাক্স এজ’ এর এজেন্ট জেরাল্ড ম্যাগনি জানান, নতুন মালিক বাড়িটিতে “দীর্ঘমেয়াদে” বসবাসের পরিকল্পনা করছেন এবং নিজের পরিচয় গোপন রাখতে চেয়েছেন। ওই এজেন্ট বলেন, তিনি মনে করেন না যে বাড়িটি বিক্রির ক্ষেত্রে রাজনীতি কোনো ভূমিকা রেখেছে।
ম্যাগনি বলেন, “বাড়িটির সংস্কারকাজে যে শ্রম ও শৈল্পিকতা ছিল। তা ক্রেতার খুব পছন্দ হয়েছে। আমার মনে হয় না যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শৈশবের বাড়ি হওয়ার বিষয়টি বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ সুবিধা দিয়েছে।” সম্পত্তিটি বিক্রির বিজ্ঞাপনে মিস্টার ট্রাম্পের সাথে এর সংযোগের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছিল; এটিকে "সত্যিকারের ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি" এবং প্রেসিডেন্টের শৈশবের বাড়িটির মালিক হওয়ার "এক বিরল ও অসাধারণ সুযোগ" হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল।
ট্রাম্পের বাবা, ফ্রেড ট্রাম্প ১৯৪০ সালে বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর পাঁচ সন্তানের মধ্যে চতুর্থ সন্তান ডোনাল্ডের জন্ম হয় ১৯৪৬ সালে। ১৯৫০ সালে ট্রাম্প পরিবার বাড়িটি ছেড়ে চলে যায়। কারণ এর ঠিক পেছনেই ফ্রেড ট্রাম্প ২৩ কক্ষবিশিষ্ট ও স্তম্ভশোভিত ইটের তৈরি একটি বিশাল অট্টালিকা নির্মাণ করেছিলেন। যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প শৈশবের বাকি সময়টা কাটিয়েছিলেন। জ্যামাইকা এস্টেটস এলাকাটি দীর্ঘকাল ধরেই দেশের অন্যতম বৈচিত্রময় কাউন্টির মধ্যে একটি অভিজাত ও বিত্তবান এলাকা হিসেবে পরিচিত। মিস্টার ট্রাম্পের শৈশবে এই এলাকাটি আরও বেশি নির্জন এবং শ্বেতাঙ্গ—প্রধান ছিল। এখন এলাকাটি বহুজাতিক কমিউনিটির গোপত্তন ঘটেছে। ২০১৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, "কুইন্সের বিভিন্ন এলাকা ছিল বেশ রুক্ষ ও বিপজ্জনক। কিন্তু এই জায়গাটি জামাইকা এস্টেট ছিল এক শান্তির নীড়।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস



