কেন ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়লেন লেভিট

২৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। ছবি : রয়টার্স
এ মাসের শেষেই হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ছেন ক্যারোলিন লেভিট। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার এ ঘোষণা দিয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ছোট সন্তানদের দেখাশোনার জন্যই তার এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেভিটকে তার ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের’ একজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সিদ্ধান্তটি তিনি পুরোপুরি বুঝতে পারছেন এবং সম্মান করেন।
পদ ছাড়ার পরও লেভিট তার অন্যতম প্রধান পরামর্শক এবং রিপাবলিকান পার্টির একজন প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
২৮ বছর বয়সী লেভিট গত বছর হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব নেন। এর মাধ্যমে তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি হন। তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা এখনো জানানো হয়নি।
গত মে মাসে স্বামী নিকোলাস রিচিওর সঙ্গে দ্বিতীয় সন্তানের মা হন লেভিট। তাদের একটি দুই বছর বয়সী ছেলেও রয়েছে। সন্তান জন্মের পর মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে গত মাসেই কাজে ফিরেছিলেন তিনি।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেভিট লিখেছেন, হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করা তার জীবনের ‘সবচেয়ে সম্মানের ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা’।
একই সঙ্গে মা হওয়া, নতুন সন্তানকে স্বাগত জানানো এবং বিশ্বের অন্যতম কঠিন দায়িত্বের সঙ্গে তা সামলে নেওয়াকে জীবনের সবচেয়ে তৃপ্তিদায়ক, আবার সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
হোয়াইট হাউজে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন লেভিট। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি সহকারী প্রেস সেক্রেটারি ও বক্তৃতা লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নিউ ইয়র্কের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য এলিস স্টেফানিকের যোগাযোগ পরিচালক হিসেবে কাজ করেন।
২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন লেভিট। রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হলেও চূড়ান্ত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস পাপাসের কাছে পরাজিত হন।
পরে ট্রাম্পপন্থী তহবিল সংগ্রহকারী সংগঠন ‘মাগা ইনক’-এর মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারশিবিরে জাতীয় প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্বও পালন করেন।
লেভিটের বিদায়কে শুধু একজন মুখপাত্রের পদত্যাগ হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি প্রশাসনের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
ট্রাম্পের মতোই সংবাদমাধ্যমের সমালোচনায় সরব ছিলেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে তীব্র বিতর্কে জড়ানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা আক্রমণ এবং প্রশাসনের বক্তব্য জোরালোভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে প্রচলিত প্রেস সেক্রেটারির ভূমিকার বাইরে গিয়ে তিনি নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেন। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের যে বিরোধ, তাতে লেভিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন।
ট্রাম্পের সমর্থকদের কাছেও লেভিট ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। তার বিদায়ের ফলে প্রশাসনের অভ্যন্তরে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বস্ত একজন সহযোগীকে হারাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে পদ ছাড়ার পরও রিপাবলিকান রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ঘোষণা থাকায় তার রাজনৈতিক প্রভাব অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : বিবিসি এবং সিএনএন








