গত বছর প্রতিদিন ১২০০ নতুন মিলিয়নিয়ার পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নতুন মিলিয়নিয়ার হয়েছেন- এআই
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চার লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে মিলিয়নিয়ার হয়েছেন। মূলত শেয়ারবাজারে শক্তিশালী উত্থানের কারণে এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট ২০২৬।
এর অর্থ, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নতুন মিলিয়নিয়ার হয়েছেন। বিশ্ব জুড়ে মিলিয়নিয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রায় অর্ধেকই এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
তবে একই প্রতিবেদনে দেশটিতে সম্পদ বৈষম্য আরও বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
২০২০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি গড় সম্পদ প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর মধ্যমসম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ, শেয়ারবাজার ও বিভিন্ন সম্পদের দাম বাড়ায় ধনী পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি লাভবান হলেও সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ সেই সুবিধা পায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পারিবারিক সম্পদের প্রায় ৭৯ শতাংশই আর্থিক সম্পদ, যেমন শেয়ার ও বন্ডে বিনিয়োগ করা রয়েছে। জরিপভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম সর্বোচ্চ হার।
ইউবিএস সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে সম্পদ বৃদ্ধির বড় অংশ নির্ভর করবে বিনিয়োগের সুযোগ পাওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের সম্পদে বিনিয়োগ ছড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতার ওপর।
বর্তমানে অন্তত ১০ লাখ মার্কিন ডলারের নিট সম্পদের মালিক ২ কোটি ৩৬ লাখ মানুষ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিলিয়নিয়ারের আবাসস্থল। এই সংখ্যা পরবর্তী ৯টি দেশের মোট মিলিয়নিয়ারের সংখ্যারও বেশি।
তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন, যেখানে মিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ৫৩ লাখ। এরপর রয়েছে জাপান, যেখানে মিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ২৯ লাখ।
এ ছাড়া ৫০ লাখ থেকে ১০ কোটি মার্কিন ডলারের মধ্যে নিট সম্পদের মালিকদের প্রায় ৬০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা।
বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯০ শতাংশ মিলিয়নিয়ারের নিট সম্পদের পরিমাণ ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বা তার কম।
প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি কোটিপতি রয়েছে সুইজারল্যান্ড ও লুক্সেমবার্গে। এই দুই দেশে প্রতি আটজন প্রাপ্তবয়স্কের একজনেরও বেশি অন্তত ১০ লাখ মার্কিন ডলারের সম্পদের মালিক।
প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি গড় সম্পদের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ড, যেখানে গড় সম্পদ ৯ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি। অন্যদিকে মধ্যম সম্পদের হিসাবে প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার মার্কিন ডলার নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে লুক্সেমবার্গ।
তুলনামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্র গড় সম্পদের দিক থেকে দ্বিতীয় হলেও মধ্যম সম্পদের হিসাবে ২৮তম অবস্থানে রয়েছে। প্রতিবেদনের মতে, এটি দেশটিতে সামগ্রিক সম্পদ বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান বৈষম্যেরই প্রতিফলন।




