ব্রিটেনে ইরানি ড্রোন হামলার হুমকি, ‘ভয়াবহ ক্ষতি’র হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
- ফেয়ারফোর্ড থেকে বোমারু বিমান সরানোর কারণ জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
- ইরানি ড্রোনে বিমান ও সেনাদের লক্ষ্য করার ছক খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ

বোমারু বিমানগুলো ব্রিটেন থেকে আমেরিকায় দুর্ঘটনাবশত উড়ে যায়নি। ব্রিটেনের মাটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও সেনাদের লক্ষ্য করে হামলার আশঙ্কা কতটা গুরুতর ছিল, তা নিয়ে কয়েক দিন ধরে চলা জল্পনার মধ্যে এবার আরও কঠোর ভাষায় মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটেনে সম্ভাব্য ড্রোন হামলার পেছনে ইরান থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেহরানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তাদের ’ভয়াবহ ক্ষতি’ ভোগ করতে হবে। এর আগেই হুমকির তথ্য পাওয়ার পর গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘপাল্লার বি-১ বোমারু বিমানের বহর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সিএনবিসি ও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এবং মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি হুমকির তথ্য ছিল এবং সেটিই বিমান সরানোর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। তার কথায়, “ওগুলো দুর্ঘটনাবশত উড়ে যায়নি। কিছু হুমকি ছিল।”
ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটেনে ইরান ড্রোন পাঠিয়েছিল কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তবে তিনি বলেছেন, যদি ইরান এমন কিছু করে থাকে, তাহলে দেশটিকে “ভয়াবহ ক্ষতি” ভোগ করতে হবে। মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্ভাব্য একটি জটিল ড্রোন হামলার মাধ্যমে ফেয়ারফোর্ডে থাকা মার্কিন বিমান ও সামরিক সদস্যদের লক্ষ্য করার আশঙ্কা ছিল। তবে ইরান এমন হামলার নির্দেশ দিয়েছিল, সেটি এখনও ব্রিটিশ পুলিশ বা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
কারা হুমকি দিয়েছিল জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরিচয় জানে। ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তাঁর ভাষায়, শত্রুকে সুযোগ দেওয়ার বদলে বিমানগুলো অন্যত্র সরানোই নিরাপদ সিদ্ধান্ত ছিল।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, মার্কিন সেনা ও বিমান রক্ষায় “অতিরিক্ত সতর্কতা” হিসেবেই পুনর্মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য দেশের বিরুদ্ধে প্রক্সি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে আসছে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আগেই বিমান সরানোর সঙ্গে ফেয়ারফোর্ডের সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী ঘটনার সরাসরি যোগ টানতে সতর্ক করেছিলেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের কাছে সন্দেহজনক তৎপরতার ঘটনায় বিশের কোঠার পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে সন্ত্রাস ও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে আটক করা হয়। তিনটি ভ্যান থেকে পেট্রল উদ্ধার হলেও কোনো কার্যকর বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। পরে তাঁদের জামিন দেওয়া হয়। ১ অক্টোবর একই তদন্তে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে লন্ডনে আটক করা হয়। তিনিও পরে জামিন পেয়েছেন। সম্ভাব্য বিদেশি রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততাসহ সব দিক তদন্ত করছে ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ।
রয়টার্স জানিয়েছে, ফেয়ারফোর্ড ইউরোপে মার্কিন দীর্ঘপাল্লার বোমারুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধে সেখান থেকে বি-১ বিমান অভিযান চালিয়েছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পেন্টাগন অবশ্য বলেছে, এতে বিশ্বের যেকোনো স্থানে হামলা চালানোর মার্কিন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম আগেই বলেছিলেন, সন্দেহভাজন ঘটনার সঙ্গে ইরানের যোগ থাকার “জোরালো ইঙ্গিত” রয়েছে। তবে এখনও কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হয়নি এবং তদন্তও শেষ হয়নি। তেহরান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও বলেছে, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি নিরাপদ রয়েছে।
ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য তাই ঘটনাটিকে আর শুধু একটি সামরিক পুনর্মোতায়েনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে না। এখন প্রশ্ন আরও গুরুতর, ব্রিটিশ মাটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও সেনাদের লক্ষ্য করে সত্যিই কি ইরান-সংশ্লিষ্ট ড্রোন হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল? উত্তর এখনও তদন্তাধীন। তবে ওয়াশিংটনের ভাষা বলে দিচ্ছে, সেই সন্দেহকে তারা হালকাভাবে নিচ্ছে না।



