যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনী ময়দানে ট্রাম্প-ওবামার লড়াই

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র ১০ দিন বাকি। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র লড়াইয়ে নেমেছে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা। বর্তমানে দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ— দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরিয়ে নিতে চাইছে।
নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোয় দুই দলের প্রচারণা জোরালো হয়েছে। একই সময়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচারণা চালাচ্ছেন রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে।
এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মিশিগান।
শনিবার ডেট্রয়েটে ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ ও গভর্নর পদপ্রার্থী জোসেলিন বেনসনের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন ওবামা। এল-সায়েদের সঙ্গে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের লড়াইকে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জিতলে এল-সায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম ও মিসরীয়-আমেরিকান সিনেটর হতে পারেন।
ক্যাস টেকনিক্যাল হাইস্কুলে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে ওবামা এল-সায়েদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেছেন, ‘আব্দুল পুরোপুরি মিশিগানের মানুষ। তিনি এই অঙ্গরাজ্যেই বেড়ে উঠেছেন এবং মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন।’ ওয়াশিংটনে পরিবর্তনের জন্য তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান ওবামা।
মিশিগানে ওবামার সমাবেশের সময়ই জর্জিয়ায় রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক কলিন্সের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন ট্রাম্প। ওবামার ২৮ অক্টোবর জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী জন ওসফের পক্ষে প্রচারণা চালানোর কথা রয়েছে। মিশিগানে ট্রাম্পও রবিবার প্রচারণা চালানোর কথা রয়েছে।
এর আগে ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর পক্ষে আয়োজিত সমাবেশে ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন ওবামা। তিনি প্রশাসনকে ‘অযোগ্য’ বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্পের শাসনামলকে ‘বিশৃঙ্খল, নিষ্ঠুর এবং দুর্নীতিতে ভরা’ বলেও মন্তব্য করেন। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করে ওবামা বলেছেন, ‘প্রশাসনের কর্মকাণ্ডই সরাসরি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য দায়ী।’
তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়েও ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, এটি এমন একটি যুদ্ধ, ‘যা কেউ চায়নি।’ হোয়াইট হাউজের সংস্কার নিয়েও ট্রাম্পকে কটাক্ষ করেন ওবামা। সেখানে স্বর্ণের কারুকাজ ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে তিনি ব্যঙ্গ করেন। ট্রাম্পকে সরাসরি নাম না নিয়ে ওবামা বলেছেন, ‘হোয়াইট হাউজে থাকা এ ব্যক্তি’ সাধারণ আমেরিকানদের চাহিদার প্রতি উদাসীন।
অন্যদিকে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের ‘বিপজ্জনক চরমপন্থী’ এবং ‘কমিউনিস্ট’ বলে আক্রমণ করছেন। ভোটারদের এমনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তিনিও ব্যালটে রয়েছেন। শুক্রবার ফ্লোরিডার এক সমাবেশে তিনি বলেছেন, রিপাবলিকানদের ভোট দিলে মানুষের পকেটে আরও অর্থ থাকবে, পরিবারের আয় বাড়বে, কর কমবে এবং অপরাধ কমবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ওবামা এবার সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি বিভিন্ন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর পক্ষে বিজ্ঞাপনেও অংশ নিয়েছেন।
টেক্সাসে সিনেট প্রার্থী জেমস টালারিকোর পক্ষে প্রচারণা করেছেন। ফ্লোরিডায় গভর্নর পদপ্রার্থী ডেভিড জলি ও সিনেট প্রার্থী অ্যাঞ্জি নিক্সনসহ কয়েকজন প্রার্থীকেও সমর্থন জানিয়েছেন। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে।
বর্তমানে রিপাবলিকানরা সিনেটে ৫৩-৪৭ এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮-২১৪ ব্যবধানে এগিয়ে আছে। দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের চারটি করে আসন বাড়াতে হবে।




