ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া ৮ মার্কিন নাবিকের আত্মহত্যার চেষ্টা

মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের আট সদস্য আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বাহিনীটির ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও কংগ্রেসকে দেওয়া এক চিঠিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন ওই চিঠির একটি অনুলিপি পেয়েছে। এতে বলা হয়েছে, লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের জাহাজগুলো যুদ্ধ অভিযান চালানোর সময়ও এসব ঘটনা ঘটেছে। তবে এ সময়ে কোনো নৌসদস্য আত্মহত্যা করেননি।
সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ডের প্রশ্নের জবাবে কাও জানান, লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে মোট আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছে। এর মধ্যে ক্যারিয়ারের নাবিক, বিমান শাখা, স্ট্রাইক গ্রুপ ও ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রনের সদস্য, সঙ্গে থাকা ডেস্ট্রয়ার এবং জাহাজে থাকা বিমান স্কোয়াড্রনের সদস্যরা রয়েছেন।
প্রায় ছয় মাসের বেশি সময় ধরে লিংকন ক্যারিয়ারকে কোনো বন্দরে না থামিয়ে মোতায়েন রাখা হয়েছিল। ইরানের বিরুদ্ধে উচ্চমাত্রার যুদ্ধ অভিযান চালানোর সময় প্রায় অর্ধডজন জাহাজে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার নৌসদস্য মোতায়েন ছিলেন।
কাওয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে পুরো মার্কিন নৌবাহিনীতে ৩৫৬টি আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছিল। ওই বছর সক্রিয় দায়িত্বে থাকা নৌসদস্যের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার। লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপের আত্মহত্যার চেষ্টার হার এ সংখ্যার সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা ‘অত্যন্ত বেশি’। সাম্প্রতিক ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপগুলোর মোতায়েনের সময় বছরে সাধারণত এক বা দুটি এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তার ভাষ্য, যুদ্ধ অভিযান, বন্দরে না থামা এবং সবসময় সতর্ক অবস্থায় থাকার কারণে স্বাভাবিক মোতায়েনের তুলনায় চাপ অনেক বেশি ছিল।
লিংকনে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য পাঁচজন ধর্মযাজক, একজন পরামর্শক, একজন মনোবিজ্ঞানী, একজন ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মী, তিনজন আচরণগত স্বাস্থ্যকর্মী এবং একটি প্রশিক্ষিত কুকুর ছিল বলে কাও জানিয়েছেন।
এর আগে সিএনএন জানিয়েছিল, লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপের দুই নাবিক সাম্প্রতিক মাসগুলোয় জাহাজ থেকে সমুদ্রে পড়ে যান। একজন ছিলেন লিংকন ক্যারিয়ারের এবং অন্যজন অন্য একটি জাহাজের নাবিক।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুজনকেই উদ্ধার করা হয়। নেভি টাইমস ও স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনে আরও কয়েকজন নাবিককে জাহাজ থেকে ঝাঁপ দেওয়া থেকে থামানোর কথা বলা হয়েছিল।
কাও জানিয়েছেন, আগস্টের শুরুতে বিমান শাখার একজন নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে পড়ে যান। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে লিংকনের চিকিৎসা বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মার্চে আরেক নাবিক জাহাজ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করলে সহকর্মীরা তাকে থামান। তাকেও তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
এর আগে নৌবাহিনী সিএনএনকে জানিয়েছিল, জাহাজে আত্মহত্যার চিন্তা বা চেষ্টার ঘটনা বেড়েছে— এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। নৌবাহিনী বলেছিল, সদস্যদের সুস্থতাকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ধর্মীয়, চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীরা রয়েছেন।
এক মার্কিন কর্মকর্তা এর আগে সিএনএনকে জানিয়েছিলেন, মোতায়েনের সময় দীর্ঘ হওয়া এবং আত্মহত্যার চিন্তার মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে বলে নৌবাহিনী মনে করে না। জাহাজ থেকে নাবিক পড়ে যাওয়ার ঘটনাও শুধু এই নৌবহরের ক্ষেত্রে ঘটছে না বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
লিংকনের এক নাবিক এর আগে সিএনএনকে বলেছিলেন, জাহাজে মনোবল খুবই কম ছিল। সহকর্মীদের মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তার কথা তিনি বারবার শুনেছেন বলেও জানান।
ওই নাবিক আরও বলেন, জাহাজের টয়লেট ও পানির ফোয়ারা প্রায়ই বন্ধ থাকত। গরম পানিও অনেক সময় পাওয়া যেত না। দেশে ফেরার খবরের জন্য নাবিকরা প্রতিদিন উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করতেন বলেও তিনি জানান।
লিংকন আগস্টে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি সান দিয়েগোর নিজ ঘাঁটিতে ফেরার কথা রয়েছে।
লিংকনে থাকা অন্য নাবিকরাও সিএনএনকে বলেছেন, আগের মোতায়েনের তুলনায় এবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। এর প্রধান কারণ ছিল যুদ্ধ অভিযান। বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর বন্দরে জাহাজ থামতে না পারায় নাবিকরা বিশ্রাম ও প্রয়োজনীয় সরবরাহ নেওয়ার সুযোগও কম পেয়েছেন।
সূত্র : সিএনএন




