বলসোনারোকে যুক্তরাষ্ট্রে পালাতে সহায়তা করেনি ট্রাম্প প্রশাসন, দাবি রুবিওর

ছবি: রয়টার্স
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে রান-অফ ভোটে হেরে যাওয়া প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোকে দেশ ছাড়তে সহায়তা করেনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দাবি এমনটাই।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামিতে বুধবার পৌঁছান বলসোনারো। এর এক দিন আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর বলসোনারো ও তার পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হবে। লাতিন আমেরিকায় রক্ষণশীল দলগুলোর নির্বাচনী জয়ের ধারার বিপরীতে ছিল এ নির্বাচনের ফল।
দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির অভিযোগে ব্রাজিলে তদন্তের মুখে রয়েছেন বলসোনারো। দেশ ছাড়ার আগে তাঁর পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। কারণ, পুলিশের ধারণা ছিল, তিনি পালিয়ে যেতে পারেন।
জর্জিয়ার আটলান্টায় শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুবিও। সেখানে বিশ্বের ২০টি বৃহৎ অর্থনীতির দেশের জোট জি-২০-এর কূটনীতিকেরা একত্র হয়েছিলেন।
রুবিও বললেন, ‘আমরা কোনো কিছুতেই সহায়তা করিনি।’
তার ভাষ্য, ‘তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছিলাম। এর আগে তার ভিসা ছিল। প্রেসিডেন্ট তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
রুবিওর দাবি, বলসোনারোকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য নেওয়া কোনো পদক্ষেপের সঙ্গে সরকার ‘সরাসরি জড়িত ছিল না’।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার ও শনিবার আটলান্টায় ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরার সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। নভেম্বরে ফ্রান্সে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে আবারও ব্রাজিলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা হবে বলে আশা করছেন তিনি।
এদিকে, এর আগে ব্রাজিলের নির্বাচনকে ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলেছিলেন ট্রাম্প। এবার বলসোনারোর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, চাইলে অনির্দিষ্টকাল যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন বলসোনারো।
ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে শনিবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বললেন, ‘আমার মনে হয়, তার সঙ্গে খুবই খারাপ আচরণ করা হয়েছে, খুবই খারাপ আচরণ। তাই তিনি যত দিন চান, এখানে থাকতে পারবেন।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মানবিক বিবেচনায় দেওয়া ‘হিউম্যানিটারিয়ান প্যারোল’ ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন বলসোনারো। এ ধরনের অনুমতির মেয়াদ সাধারণত এক বছর।
ট্রাম্পের মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, পশ্চিম গোলার্ধের বৃহত্তম দুই গণতান্ত্রিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের সম্পর্ক আরও কিছুদিন উত্তেজনাপূর্ণ থাকতে পারে।
রান-অফ ভোটে হেরে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা ও ইকুয়েডর হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান বলসোনারো। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর কয়েকটি জানিয়েছে, তার এ যাত্রার ব্যবস্থা করতে আংশিকভাবে সহায়তা করেছিলেন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা জেসন মিলার।
নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলসোনারো। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি ফলাফলকে জালিয়াতিপূর্ণ বলে দাবি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর নিজেকে ব্রাজিলের প্রকৃত ‘নেতা’ বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি বলেছেন, ‘নির্যাতনের’ শিকার হওয়ায় দেশ ছেড়েছেন।
সূত্র: আলজাজিরা



