মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট জিতলে কি বদলে যাবে ওয়াশিংটনের চীন দর্শন?

ছবি: রয়টার্স
চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্কটা কিছুটা উষ্ণ করার চেষ্টা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি আর ভূরাজনীতি নিয়ে চলছে দর-কষাকষি। কিন্তু ঠিক এমন সময়েই ওয়াশিংটনে যদি ক্ষমতার সমীকরণ বদলে যায়? ট্রাম্পের নিজের দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারায়, আর বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা পেয়ে যায় প্রেসিডেন্টকে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করানোর ক্ষমতা!
তখন চীনের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রতিটি চুক্তি, প্রতিটি সমঝোতা, এমনকি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কও পড়তে পারে কংগ্রেসের কড়া নজরদারিতে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে কি চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিই বদলে যাবে? নাকি ট্রাম্পকে চাপে রাখলেও বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে দুই দলের ঐকমত্য ঠিকই বজায় থাকবে?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এসব প্রশ্নগুলোই।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে চীনের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক ও লেনদেন নিয়ে আরও কঠোর নজরদারি শুরু হতে পারে। তবে চীনের প্রতি সামগ্রিকভাবে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে দলীয় ঐকমত্য থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয়বিষয়ক সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপকমিটির সাবেক প্রধান কর্মকর্তা সারা ট্রিস্টার বলেছেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলালে নজরদারির ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে। ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল এত দিন চীননীতি নিয়ে তাকে অনেকটাই স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে প্রশাসনের চীননীতি নিয়ে আরও বেশি জবাবদিহি চাইতে পারে।
তিনি বললেন, ‘কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা এসে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের পুরো কাঠামো নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেবে বলে আমি মনে করি না।’
তবে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার মতো বেশ কিছু ক্ষমতা হাতে পাবে ডেমোক্র্যাটরা। এর মধ্যে রয়েছে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা এবং নথিপত্র তলব করার ক্ষমতা।
বর্তমানে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এফজিএস গ্লোবালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ট্রিস্টার বললেন, ‘তারা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তাহলে নিজেদের ক্ষমতা ব্যবহার করবে। তাদের কাছে সমন জারি করার ক্ষমতা থাকবে।’
ট্রিস্টা্রের মতে, চীন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে— এ বিষয়ে দুই দলের মধ্যে মোটামুটি ঐকমত্য রয়েছে। তবে তার ভাষায়, ডেমোক্র্যাটরা ‘কৌশলগত বিচ্ছিন্নতা’র পক্ষে।
ট্রাম্প যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শিয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ করার চেষ্টা করছেন, তখন প্রযুক্তি, বাণিজ্য, তাইওয়ান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও শুল্কনীতির মতো বিষয়গুলোয় কংগ্রেসের নজরদারি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের জন এল থর্নটন চায়না সেন্টারের ফেলো কাইল চ্যান বলেন, চীন ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এখন একক অবস্থান নেই।
তিনি বললেন, ‘ডেমোক্র্যাটদের মধ্যপন্থী ধারার প্রচলিত অবস্থানের সমর্থক চাক শুমারের মতো নেতারা আরও কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে কথা বলে আসছেন। ট্রাম্প রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করায় কিংবা আরও কঠোর অবস্থান না নেওয়ায় তারা বেশ সরব সমালোচনাও করেছেন।’তবে দলের সদস্যদের মধ্যে এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। চ্যানের মতে, ডেমোক্র্যাটদের প্রগতিশীল অংশের কেউ কেউ এ বিষয়ে মিশ্র অবস্থান নিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে চীনের সঙ্গে কাজ করার’ আগ্রহও দেখাতে পারেন।কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা দ্বিমুখী কৌশল নিতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। বিষয় দুটি নিয়েই দুদলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক রয়েছে।চ্যান বললেন, ‘একদিকে তারা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের ফাঁকফোকর বন্ধ করার চেষ্টা করবে এবং “ম্যাচ” আইনের মতো উদ্যোগ এগিয়ে নেবে।’এখানে তিনি ‘মাল্টিল্যাটারাল অ্যালাইনমেন্ট অব টেকনোলজি কন্ট্রোলস অন হার্ডওয়্যার অ্যাক্ট’-এর কথা উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটরা ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে চীনের সঙ্গে যোগাযোগের নতুন কিছু পথ তৈরি করতে এবং বিভিন্ন ধারণা নিয়ে কাজ করতে পারে।’ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি উপদেষ্টা আলি ওয়াইনের ধারণা, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের একটি বা দুটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সহযোগিতার বিষয়ে তাদের আগ্রহ আরও বাড়বে।তার ভাষায়, ‘ডেমোক্র্যাট দলের আরও কয়েকজন প্রভাবশালী সিনেটর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।’তিনি বললেন, ‘চীনকে আমরা বিশ্বাস করি বলে নয়, ভবিষ্যতে বিশ্বাস করব বলেও নয়; বরং এই ইস্যুতে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিণতি এতটাই গুরুতর যে সহযোগিতা জরুরি।’ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি শুল্কনীতি। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে এ নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করেন আটলান্টিক কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চেয়ারম্যান জশ লিপস্কি।তিনি বলেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে শুল্কনীতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।লিপস্কির ধারণা, বাণিজ্যনীতির ওপর কংগ্রেসের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনতে তারা কয়েকটি বিল পাসের চেষ্টা করবে। এর মধ্যে শুল্ক বহাল রাখতে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা এবং নির্দিষ্ট কিছু আইনের আওতায় শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব থাকতে পারে।লিপস্কি বলেন, এসব বিল প্রেসিডেন্টের কাছে গেলে ট্রাম্প তাতে ভেটো দেবেন। তবে ২০২৮ সাল ও তার পরবর্তী সময়ের জন্য এসব বিল একটি নীতিগত কাঠামো তৈরি করতে পারে।তবে চীনের ওপর আরোপিত কিছু শুল্ক বহাল থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।লিপস্কি বললেন, ‘চীনের ওপর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আরোপ করা ১০০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ির শুল্কের কথাই ধরুন। এর ফলে ইউরোপ এখন যে পরিস্থিতির মুখে পড়েছে; সস্তা চীনা বৈদ্যুতিক গাড়িতে তাদের বাজার সয়লাব হয়ে যাওয়া— তা যুক্তরাষ্ট্রে ঠেকানো গেছে।’বর্তমান কংগ্রেসেও চীনে তৈরি ইন্টারনেট-সংযুক্ত গাড়ি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনে পরিণত করতে দুই দলের সমর্থনপুষ্ট একটি বিল নিয়ে আলোচনা চলছে।লিপস্কির মতে, কোন কোন শুল্ক বহাল রাখা হবে, তা নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানিতে চীনের পাল্টা পদক্ষেপ— এসব বিষয় আগামী দুই বছর আলোচনায় থাকবে।যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি তাইওয়ান। অস্ত্র বিক্রি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেটের বিভিন্ন বিধান এ বিষয়ে কংগ্রেসের নজরদারির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।জার্মান মার্শাল ফান্ডের চীনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ বনি গ্লেজার বলেন, ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে প্রতিরক্ষা খাতে অনুমোদন ও ব্যয় নির্ধারণের প্রক্রিয়া এবং সিনেটের কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাইওয়াননীতি নির্ধারণে তাদের প্রভাব বাড়তে পারে।তার মতে, এর ফলে আগে অনুমোদিত অস্ত্র সরবরাহের সময়সীমা, নতুন অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আগাম অবহিতকরণ, তাইওয়ানের নিরাপত্তা তহবিলের ব্যবহার এবং অস্ত্র সরবরাহে বিলম্বের বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার শর্ত আরোপ করতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। অস্ত্র বিক্রি স্থগিত বা শর্তযুক্ত করার কারণ ব্যাখ্যা করার দাবিও তুলতে পারে তারা।গ্লেজার বললেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা যদি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেয়, তাহলে প্রশাসনের নীতির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ দেখা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, “সিক্স অ্যাস্যুরেন্সেস টু তাইওয়ান অ্যাক্ট” পাসের উদ্যোগ গতি পেতে পারে। বিলটির পক্ষে দুই দলেরই সহ-উদ্যোক্তা রয়েছেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ‘ঝুঁকিতে’ থাকে ক্ষমতাসীন দল, ইতিহাস কী বলে
০২ নভেম্বর ২০২৬
বেইজিং তাইওয়ানকে চীনের অংশ মনে করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও দ্বীপটিকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে পুনরায় একীভূত করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রসহ অধিকাংশ দেশ তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। তবে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে দ্বীপটিকে প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোয় নেতৃত্বের রদবদল
ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে চীন বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন অগ্রাধিকার থাকা আইনপ্রণেতারা এসব কমিটির নেতৃত্বে আসতে পারেন।
প্রতিনিধি পরিষদে পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নিউ ইয়র্কের গ্রেগরি মিকস রিপাবলিকান ব্রায়ান মাস্টের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কমিটির চেয়ারম্যান হতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যামি বেরা রিপাবলিকান ইয়ং কিমের কাছ থেকে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয়বিষয়ক উপকমিটির নেতৃত্ব নিতে পারেন।
ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের নিয়ন্ত্রণও পেলে ডেলাওয়ারের ক্রিস কুনস অবসরে যাওয়া জিন শাহিনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে দলের শীর্ষ প্রতিনিধি হতে পারেন। এমনকি কমিটির চেয়ারম্যানও হতে পারেন তিনি।
বর্তমানে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান ও কংগ্রেসম্যান ক্রিস স্মিথের নেতৃত্বে থাকা চীনবিষয়ক কংগ্রেশনাল-এক্সিকিউটিভ কমিশনের নিয়ন্ত্রণও ডেমোক্র্যাটদের হাতে যেতে পারে। এক্ষেত্রে কংগ্রেসম্যান জিম ম্যাকগভর্ন অথবা সিনেটর জেফ মার্কলি সম্ভাব্য প্রার্থী। বেইজিংয়ের মানবাধিকার পরিস্থিতির দীর্ঘদিনের সমালোচক তারা দুজনই।
সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে প্রতিনিধি পরিষদের চীনবিষয়ক বিশেষ কমিটির নেতৃত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তনের দিকে। এটি কংগ্রেসের একটি অস্থায়ী কমিটি।
গ্লেজার বলেন, দলীয় নিয়ন্ত্রণ বদলালেও কমিটিটি টিকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মানবাধিকার ইস্যুতে কমিটির অগ্রাধিকার আরও বাড়তে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়ার রো খান্না কমিটিতে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ প্রতিনিধি। তিনি রিপাবলিকান জন মুলেনারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে চেয়ারম্যান হতে পারেন।
ওয়াইনের মতে, খান্না চেয়ারম্যান হলে কমিটিকে ‘সম্ভাব্যভাবে অনেক বেশি কার্যকর পথে’ পরিচালিত করতে পারেন। তার মতে, কমিটির বর্তমান শীর্ষ ডেমোক্র্যাট যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের জন্য চীন যেসব চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, সেগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন।
তবে চীনের প্রতি কংগ্রেসের সামগ্রিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন তিনি। যদিও কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের প্রশাসনের নীতিকে চ্যালেঞ্জ করার রাজনৈতিক সুযোগ বাড়িয়ে দিতে পারে।
ওয়াইন বলেছেন, ‘কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করতে পারে— চীননীতি নিয়ে ট্রাম্পের প্রচলিত ধারার বাইরে অবস্থান, চীনের প্রতি মার্কিন জনগণের মনোভাব উষ্ণ হওয়া এবং ওয়াশিংটনের অনির্ভরযোগ্যতা ও অনিশ্চয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও অংশীদারদের উদ্বেগ বাড়া। এসব কারণে পরবর্তী কংগ্রেসের সদস্যরা বিকল্প নীতির পক্ষে কথা বলার আরও বেশি রাজনৈতিক সুযোগ পেতে পারেন।’






