এআইয়ের উত্থান
কী পড়লে মিলবে মোটা বেতন, ধন্দে শিক্ষার্থীরা

সংগৃহীত ছবি
ঘনিয়ে আসছে ১ মে। উচ্চশিক্ষার বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যা ‘কলেজ ডিসিশন ডে’ নামে পরিচিত। এই সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তারা কোন বিষয় নিয়ে পড়বে বা কোন কলেজে যাবে।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এবারের চিত্রটা ভিন্ন। একদিকে আকাশছোঁয়া টিউশন ফি, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়জয়কার। সব মিলিয়ে কোন ডিগ্রি ভবিষ্যতে উচ্চ বেতনের চাকরির নিশ্চয়তা দেবে, তা নিয়ে চরম ধন্দে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
দেশটির সাউথ ডাকোটার মেরি অ্যাকারম্যান তার সন্তানদের নিয়ে ইতিমধ্যে ঘুরে দেখেছেন ৩০টিরও বেশি কলেজ ক্যাম্পাস। তার এক সন্তান পড়ছে স্ট্যানফোর্ডে, অন্যজন উচ্চমাধ্যমিকে।
‘আমি প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রশ্ন করি, এই শিক্ষার প্রকৃত মূল্য আসলে কতটুকু?’, এআইয়ের প্রভাবে চাকরির বাজার যেভাবে বদলাচ্ছে, তাতে পছন্দের ডিগ্রিটি শেষ পর্যন্ত ভালো বেতনের চাকরি এনে দেবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় মেরি।
একটা সময় কম্পিউটার সায়েন্সের ডিগ্রিকে ধরা হতো নিশ্চিত সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে। কিন্তু এআই এখন কোডিং থেকে শুরু করে টেক জগতের অনেক কাজই অনায়াসে করে দিচ্ছে। ফলে আগে যে বিষয়গুলোকে উচ্চ বেতনের গোল্ডেন টিকিট মনে করা হতো, এখন আবেদন ফুরিয়ে আসছে সেগুলোর।
‘কলেজ ও বিষয়’ বাছাই নিয়ে কলেজ অ্যাডভাইজার ব্রায়ানা অ্যাঞ্জেলুচি বলেছেন, আগের চেয়ে এখন বিভ্রান্তি অনেক বেশি।
দেশটিতে প্রতি বছরই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পড়াশোনার খরচ। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে চার বছরের প্রতিষ্ঠানগুলোতে টিউশন ফি ৩.৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে বছরে প্রায় ৩১ হাজার ৮৮০ ডলারে। বেসরকারি কলেজে ছাড়িয়ে গেছে এই খরচ ৪৫ হাজার ডলার।
বিপরীতে স্নাতক শেষে একজন শিক্ষার্থীর ওপর ঋণের বোঝা থাকে গড়ে ৩৯ হাজার ৪৫৭ ডলার। ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের অধ্যাপক ড্যানিয়েল এ. কোলিয়ার সতর্ক করে বলেছেন, ‘ছাত্রঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে এখন সচেতন হতে হবে অনেক বেশি। কারণ আগের মতো সহজ নেই কিস্তি পরিশোধের শর্তগুলো।’
এমন পরিস্থিতিতে চাকরির বাজারের অনিশ্চয়তা কঠোর হতে বাধ্য করছে অনেক অভিভাবককে।
নর্থ ক্যারোলাইনার অভিভাবক লুসি হিউজ জানান, আমি সন্তানদের এমন বিষয় পড়তে বলছি, যা থেকে সরাসরি আয় করা যায় মোটা অংকের টাকা। যদি আমার সন্তান শিক্ষক হতে চাইত, আমি সাফ না করে দিতাম। এজন্য আমি খরচ দেব না। যদিও আমি নিজেও একজন শিক্ষক ছিলাম।
শুধু অভিভাবকরাই নন, বরং শিক্ষার্থীরাও নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। একদিকে নিজেদের পছন্দ অনুসরণ করার ইচ্ছা, অন্যদিকে এআইয়ের দাপটে সেই ক্ষেত্রটি বিলুপ্ত হওয়ার ভয়, এই দুইয়ের মাঝে পড়ে অনেকে দিশেহারা।
একইসঙ্গে অনেক অভিভাবক এখন ব্যয়বহুল প্রথাগত ডিগ্রির বদলে দুই বছরের ডিগ্রি বা কারিগরি শিক্ষাকে মনে করছেন বেশি নিরাপদ। তাদের মতে, শর্ট ডিগ্রি নিতে খরচ কম। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথাগত ডিগ্রির তুলনায় অনিশ্চয়তাও অনেক কম।
গবেষণা বলছে, এখনো হাইস্কুল পাস করাদের তুলনায় গড়ে ৬০ শতাংশ বেশি আয় করেন বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারীরা। তাদের কম থাকে বেকার হওয়ার সম্ভাবনাও।





