‘যুদ্ধবিরতি সময়ের অপচয়’, ট্রাম্প; ‘আলোচনায় আন্তরিক নয় যুক্তরাষ্ট্র’, ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে মেরিন ওয়ান থেকে নামছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি / সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুদ্ধবিরতিকে ‘সময় নষ্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে তেহরান বলেছে, আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিক নয়। কূটনীতির সঙ্গে ইরানের ওপর দাবি চাপিয়ে দেওয়াকে ওয়াশিংটন বারবার গুলিয়ে ফেলছে।
স্থানীয় সময় সোমবার মিসিসিপিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌঅবরোধ সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড়।
তিনি বলেছেন, ‘অনেক মাস ধরে ইরানের একটি জাহাজও বের হতে পারেনি। শুধু যখন আমরা ছোট একটি যুদ্ধবিরতি দিয়েছিলাম, তখন ছাড়া।’
ওই যুদ্ধবিরতি তার পছন্দ ছিল না জানিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি এটিকে একধরনের সময়ের অপচয় মনে করেছিলাম। তবে পেশাদারদের কথাও তো শুনতে হয়।’
যুদ্ধের সময় তেলের দাম অনেক বেশি বাড়বে বলে ধারণা করেছিলেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, ‘তেলের দাম আগের চেয়েও কম।’
সংঘাত শিগগিরই শেষ হবে বলেও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছেন, ‘সবকিছু ঠিকঠাকই হয়েছে। এটি শিগগিরই শেষ হবে এবং তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।’
ইরান নয়, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করেছে— এমন বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করিনি। ইরান আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেছে।’
১৯৭৯ সাল থেকে ইরানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, বছরের পর বছর ধরে মার্কিন নাগরিকদের হত্যা করেছে তেহরান। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, ‘সোলাইমানি—সোলাইমানিকে চেনেন তো? আমার প্রথম মেয়াদে আমি তাকে হত্যা করেছি।’
এদিকে সোমবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বিষয়ে আন্তরিক নয়।’
তার অভিযোগ, ওয়াশিংটন বারবার মিথ্যা দাবি করছে। ২০২৫ সালের জুনে ইরানে মার্কিন সামরিক হামলার কিছুদিন আগেও ট্রাম্প আলোচনার পক্ষে কথা বলেছিলেন। বাঘাই প্রশ্ন করেন, ‘এটাকে আপনারা কী বলবেন? এই আচরণে কি সদিচ্ছার কোনো লক্ষণ দেখেন?’
তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক বিবৃতির বাইরে ইউরোপের কাছ থেকে আলোচনার নতুন কোনো প্রস্তাব পায়নি তেহরান। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ এবং ইরানে সামরিক হামলার নিন্দা না করায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির সমালোচনাও করেছেন তিনি।
বাঘাই আবারও দাবি করেছেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক ছিল না বা তা তৈরির চেষ্টা করেনি। তার অভিযোগ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সামরিক হামলার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছে ওয়াশিংটন। ইসরায়েলের দাবিতে প্রভাবিত হয়েই যুক্তরাষ্ট্র এমন অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেছেন, তেহরান সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনা করে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে সই করেছিল। কিন্তু তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়।
কাতারে উড়োজাহাজে হামলার পর নিখোঁজ তিন ইরানি পাইলটের ভাগ্য পরিষ্কার করার দায়িত্ব দোহার বলে জানিয়েছেন বাঘাই। এ নিয়ে সামরিক, কারিগরি ও আইনি পর্যায়ে তৎপরতা চলছে। সম্প্রতি কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করেছে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন ও ইরানে হামলার হুমকি নিয়ে বাঘাই অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি রাজনীতিকরা কে বেশি অপরাধ করতে পারেন, তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করছেন।
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সংঘাত নিয়েও কথা বলেছেন বাঘাই। তিনি বলেছেন, সামরিক পন্থা সমস্যা আরও জটিল করে এবং ব্যাপক ক্ষতি ডেকে আনে। বিরোধটি সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত এবং তেহরান এতে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হয় এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। ১৮ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। তবে মার্কিন নৌ অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সূত্র : আনাদুলো এজেন্সি ও ইরান ইন্টারন্যাশনাল





