এলিয়েন সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রকাশিত সম্ভাব্য ইউএফও
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর শুক্রবার প্রথম দফায় পূর্বে গোপন রাখা এলিয়েন সংশ্লিষ্ট অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু (ইউএফও) সম্পর্কিত নথি প্রকাশ করেছে। ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নির্দেশের পর নেওয়া হয় এই পদক্ষেপ।
প্রকাশিত নথির মধ্যে কয়েক দশক পুরনো ১৬২টি ফাইল রয়েছে, যার মধ্যে এফবিআই, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার নথিও অন্তর্ভুক্ত। এর সঙ্গে এসব নথি সংরক্ষণের জন্য নতুন একটি ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে, যেখানে কালো পটভূমিতে ব্যবহার করা হয়েছে সাদা টাইপরাইটারধর্মী ফন্ট।
যদিও এক বিবৃতিতে পেন্টাগন প্রকাশিত ছবি ও নথি সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তারা জানিয়েছে, অনেক নথি কেবল নিরাপত্তাজনিত কারণে যাচাই করা হয়েছে এবং ‘কোনো অস্বাভাবিক ঘটনার ব্যাখ্যা নির্ধারণের জন্য এখনো বিশ্লেষণ করা হয়নি’।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আগের প্রশাসনগুলো যেখানে আমেরিকান জনগণকে নিরুৎসাহিত বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল, সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মনোযোগী, যাতে জনগণ নিজেরাই এসব নথিতে থাকা তথ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’
জ্বালানি বিভাগ, নাসা, এফবিআই এবং ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালকের দপ্তরসহ কয়েকটি সরকারি সংস্থা এই নথি প্রকাশ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
ট্রাম্প এই উদ্যোগকে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এর আগে তিনি প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি, তার ভাই সিনেটর রবার্ট এফ কেনেডি এবং নাগরিক অধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের নির্দেশও দিয়েছিলেন। তবে সেসব নথিতে আগে জানা তথ্যের বাইরে পাওয়া যায়নি তেমন নতুন কিছু।
ইউএফও এবং অজ্ঞাত আকাশীয় ঘটনা (ইউএপি) সম্পর্কিত নথি প্রকাশের জন্য ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের নির্দেশ আসে এমন এক সময়, যখন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে ভিনগ্রহের প্রাণী ‘বাস্তব’, যদিও তিনি নিজে কখনো কোনো ভিনগ্রহের প্রাণী দেখেননি এবং সরকারও এমন কাউকে নিজেদের স্থাপনায় রাখেনি।
পরে ওবামা স্পষ্ট করেন, ‘আমার প্রেসিডেন্সির সময়ে আমি এমন কোনো প্রমাণ দেখিনি যে ভিনগ্রহের প্রাণীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।’
সমালোচকেরা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প রাজনৈতিক সংকট থেকে দৃষ্টি সরাতে জনআগ্রহের বিষয়গুলোর নথি প্রকাশ করছেন, বিশেষ করে অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপেস্টিন-সংক্রান্ত তদন্ত নথি পরিচালনা নিয়ে বিচার বিভাগের সমালোচনার প্রেক্ষাপটে।
জানুয়ারিতে বিচার বিভাগ জানিয়েছিল, এপেস্টিন-সংক্রান্ত আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক সব নথি প্রকাশ সম্পন্ন হয়েছে। এপস্টেইনের প্রভাবশালী সামাজিক পরিমণ্ডলে একসময় ট্রাম্পও ছিলেন। তবে আইনপ্রণেতারা বারবার বলেছেন, মনে হচ্ছে না প্রকাশিত নথিগুলো সম্পূর্ণ।
ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের রিপাবলিকান সমালোচক ও মার্কিন প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি ইউএফও নথি প্রকাশকে আখ্যা দেন ‘গণবিভ্রান্তির চূড়ান্ত অস্ত্র’ বলে।
নতুন নথিগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এতে তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের প্রকাশ পাওয়া যায়নি।
উদাহরণ হিসেবে, একটি নথিতে এফবিআইয়ের এমন এক ব্যক্তির সাক্ষাৎকার রয়েছে, যিনি নিজেকে ড্রোনচালক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি জানান, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে আকাশে একটি ‘রৈখিক বস্তু’ দেখেছিলেন, যার আলো এত উজ্জ্বল ছিল যে ‘আলোর ভেতরে রেখাগুলোও দেখা যাচ্ছিল’।
এফবিআইয়ের সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, ‘বস্তুটি পাঁচ থেকে ১০ সেকেন্ড দৃশ্যমান ছিল, এরপর আলো নিভে যায় এবং বস্তুটি অদৃশ্য হয়ে যায়।’
আরেকটি নথিতে ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ মিশনের নাসার একটি ছবি রয়েছে, যেখানে দেখা যায় ত্রিভুজাকারে তিনটি বিন্দু।
সঙ্গে দেওয়া ব্যাখ্যায় পেন্টাগন জানিয়েছে, ‘এই অস্বাভাবিক ঘটনার প্রকৃতি নিয়ে কোনো ঐকমত্য নেই’, তবে নতুন প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়েছে এটি একটি ‘ভৌত বস্তু’ হতে পারে।
ইউএফও ও ইউএপি নিয়ে আগ্রহ কয়েক দশক ধরে অব্যাহত রয়েছে এবং বিভিন্ন মার্কিন প্রশাসনের সময়ও এটি আলোচনায় ছিল। ২০২২ সালে কংগ্রেস এ-সংক্রান্ত উপকরণ তদন্ত ও গোপনীয়তা প্রত্যাহারের জন্য পেন্টাগনের একটি দপ্তর গঠন করে। ওই বছরই প্রতিনিধি পরিষদের একটি প্যানেল ৫০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার এ বিষয়ে আয়োজন করে প্রকাশ্য শুনানি।
২০২৪ সালে প্রকাশিত ওই দপ্তরের প্রথম প্রতিবেদনে উঠে আসে শত শত নতুন ইউএপি ঘটনার তথ্য।
তবে সেখানে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে মার্কিন সরকার কখনো ভিনগ্রহের প্রযুক্তি দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে এই দাবিও খারিজ করা হয় যে ভিনগ্রহের প্রযুক্তি উদ্ধার করেছে বা ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছে মার্কিন সরকার।




