জেডি ভ্যান্স
যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সমঝোতা হয়নি, চুক্তির কাছাকাছি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। তবে দুই দেশ একটি সম্ভাব্য চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স বলেছেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।’
তিনি বলেছেন, ‘আমরা এখনো সেখানে পৌঁছাইনি, তবে খুব কাছাকাছি আছি। কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে এবং আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’
জেডি ভ্যান্স আলোচনার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস ইরান ‘সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই’ আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।’
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামোতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে সেটি কার্যকর হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদন প্রয়োজন।
অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, কোনো চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অনুমোদনও দেওয়া হয়নি।
খবরে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করতে হবে এবং বিদ্যমান মজুদ সরিয়ে ফেলতে হবে। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, এসব উপাদান ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হতে পারে।
তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, দুই দেশ একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপও বাড়ছে। উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর পাশাপাশি ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তিতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ও থাকতে পারে। পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে দেশটিকে আবার তেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
তবে দুই দেশের মধ্যে একটি কথিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের খসড়ার খবর প্রকাশিত হলেও হোয়াইট হাউজ সেটিকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।






