স্যাটেলাইট ছবিতে ধরা পড়লো লেবাননে ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ

স্যাটেলাইট ছবিতে ধ্বংসযজ্ঞ
দক্ষিণ লেবাননের শহর ও গ্রামগুলোতে পদ্ধতিগতভাবে চালানো হচ্ছে ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞ। বিবিসি ভেরিফাইয়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে এমন চিত্র। স্যাটেলাইট ছবি ও যাচাইকৃত ভিডিওতে ২ মার্চের পর থেকে প্রমাণ পাওয়া গেছে ‘১,৪০০টির বেশি ভবন’ ধ্বংসের। তবে সীমিত প্রবেশাধিকার ও চিত্রের কারণে সতর্ক করা হয়েছে, প্রকৃত ধ্বংসের পরিমাণ ‘এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে’।
এই পরিস্থিতির তীব্রতা বাড়ে ২২ মার্চ ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘গাজার মডেলে’ লেবাননের ঘরবাড়ি ধ্বংস দ্রুততর করার নির্দেশ দেওয়ার পর, যা শুরু করা হয় হিজবুল্লাহবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে।আইন বিশেষজ্ঞরা বিবিসি ভেরিফাইকে জানান, এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ‘যুদ্ধাপরাধের’ শামিল হতে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে সামরিক প্রয়োজনীয়তা থাকলেই কেবল অনুমতি রয়েছে সম্পত্তি ধ্বংসের।
ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের সেনাবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে সশস্ত্র সংঘাতের আইন মেনে। বেআইনি ধ্বংসের অভিযোগ করেছে অস্বীকার। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহ বেসামরিক এলাকায় অবকাঠামো স্থাপন করে। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ দেয়নি তারা।
২ মার্চ হিজবুল্লাহ রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোর পর তীব্র আকার নেয় এ সংঘাত। জবাবে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে এবং জারি করে সীমান্ত থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা খালি করার নির্দেশ।
এর পর থেকে লেবাননে ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নিহত হয়েছে দুই হাজারের বেশি। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরায়েলে ১৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পুরো অঞ্চলজুড়ে দেখা গেছে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। কেবল তায়েবেহ এলাকায় ধ্বংস হয়েছে চার শতাধিক ভবন, আর আইতা আল-শাব-এ ভেঙে ফেলা হয়েছে ৪৬০টির বেশি স্থাপনা। যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে সমন্বিত বিস্ফোরণে পুরো পাড়া-মহল্লা গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য। নাকৌরায় ধ্বংস হয়েছে অন্তত ১০০টি ভবন, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাছের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা সদরদপ্তরও।
একজন জাতিসংঘ কর্মকর্তা এই ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রাকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, ‘এগুলো শুধু ভবন নয়, এগুলো একটি সম্প্রদায়ের প্রতীক।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ব্যাপক ধ্বংস সামরিক প্রয়োজনীয়তার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জেনিনা ডিলের মতে, ‘দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে গ্রাম গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো কাজ বৈধ নয়।’
ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন কেন্দ্রের সহ-পরিচালক ড. লরেন্স হিল-ককথর্নের মতে, ‘আইনের মৌলিক নীতি’ হলো বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা যাবে না।
তিনি বলছেন, ‘লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধকে যদি হিজবুল্লাহর আক্রমণের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়, তবুও ইসরায়েলি কার্যকলাপ আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধের সীমা অনেক ছাড়িয়ে গেছে।’




