‘হুতিদের লক্ষ্যবস্তু করা মক্কা চুক্তির ইসলামী সংহতির ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বাস্তব পরীক্ষা হিসেবে ইসরায়েলের বদলে হুতিদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি চুক্তিটিকে যে ইসলামী সংহতির ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছিল, তার সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক। আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বেতুল দোগান আক্কাস এ কথা বলেছেন।
তিনি আলজাজিরাকে বললেন, ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে প্রথমবারের মতো ইসলামের ভূখণ্ড রক্ষার চুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে। গাজা বা ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের হুমকিকে কেন্দ্র করে এটিকে উপস্থাপন করা হয়নি, যদিও সেটিই বেশি স্বাভাবিক ব্যাখ্যা হতো।’
তিনি বললেন, ‘প্রথমেই হুতিদের হুমকিকে কেন্দ্র করে চুক্তিটিকে উপস্থাপন করা হলে দীর্ঘমেয়াদে এর ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতার জন্য তা ভালো নাও হতে পারে।’
তার ভাষ্য, ‘আপনি ইসরায়েল বা পশ্চিমা দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছেন না ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি মুসলিম দেশ, একটি মুসলিম জাতিকেই লক্ষ্যবস্তু করছেন। বিষয়টি চুক্তিটিকে কিছুটা বিতর্কিত ও জটিল করে তোলে।’
তিনি বললেন, ‘একবার আপনি বলছেন যে চুক্তিটি অন্য পক্ষগুলোর জন্য উন্মুক্ত, আর আপনার প্রথম বাস্তব লক্ষ্য যদি শেষ পর্যন্ত ইরানের একটি প্রক্সি গোষ্ঠী হয়, তাহলে চুক্তিটির ভবিষ্যৎ কী হবে বা এটি কোথায় গিয়ে শেষ হবে—তা নিয়ে কী ধারণা তৈরি হয়?’
এদিকে, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ভবিষ্যতে ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘মুসলিম বিশ্বের’ জন্য আরও বিস্তৃত একটি জোটে রূপ নিতে পারে। তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার শুক্রবার এমন মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
তিনি বললেন, ‘আমরা কখনোই মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তি হিসেবে দেখি না, এমনটা হওয়া উচিতও নয়। বরং আমরা আশা করি, মক্কা চুক্তি মুসলিম বিশ্বের জন্য আরও বিস্তৃত একটি চুক্তিতে পরিণত হবে। ইরানও এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারে। আমরা আশা করি, অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের অংশগ্রহণে এটি আরও শক্তিশালী হবে।’
সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স




