বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে চীন সফরে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং
বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে সোমবার চীন সফরে পৌঁছেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। সফরকালে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
এএফপির খবরে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বেসামরিক প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি মিন অং হ্লাইংয়ের দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফর। এর আগে ভারত সফর করেছিলেন তিনি।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেকটাই কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার।
সোমবার মিয়ানমারের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রার আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত ব্যক্তিদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান মিন অং হ্লাইং। পরে তার বেইজিং পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত চলা এ সফরে প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং এবং দেশটির শীর্ষ আইনপ্রণেতা ঝাও লেজির সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান শুক্রবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানান, মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও নবায়ন এবং দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করার লক্ষ্যেই এ সফরকে গুরুত্ব দিচ্ছে বেইজিং।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সফরসূচির অংশ হিসেবে মিন অং হ্লাইং চীনের উচ্চপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন এবং একটি অর্থনৈতিক সম্মেলনেও অংশ নেবেন।
এদিকে সম্প্রতি মিয়ানমারবিষয়ক একটি থিংক ট্যাংকের সঙ্গে যুক্ত এক মার্কিন নাগরিককে চীন আটক করায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই দেশের সম্পর্ক।
শুক্রবার লিন জিয়ান সাংবাদিকদের জানান, ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি মিয়ানমারের প্রতিষ্ঠাতা মিন জিনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চীনের জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করতে পারে এমন গুপ্তচরবৃত্তিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে।
ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি মিয়ানমার দেশটির রাজনীতি, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করে।
অন্যদিকে, অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বিভিন্ন সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে আছে। মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের প্রায় ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থিরতা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বেইজিং।
এ বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সামরিকপন্থী মিত্রদের নিরঙ্কুশ বিজয়কেও প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে চীন।
এর আগে এপ্রিল মাসে রাজধানী নেপিদোতে মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই মিয়ানমারের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রচেষ্টার প্রতি বেইজিংয়ের দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।




