বিদেশি কর্মীদের বেতন পেতে দেরি অগ্রহণযোগ্য: কুয়েতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেখ ফাহাদ আল-ইউসুফ আল-সাবাহ
কুয়েতে নিত্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েই চলেছে। কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়ছে না প্রবাসী কর্মীদের বেতন। তীব্র এই সংকটের মুখে প্রবাসীদের প্রতি মানবিক আচরণের আহ্বান জানালেন দেশটির প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ আল-ইউসুফ আল-সাবাহ। একই সঙ্গে জাতীয়তা নির্বিশেষে সব কর্মীর বেতন যথাসময়ে পরিশোধ করতে কুয়েতের ব্যবসায়ী ও নিয়োগকর্তাদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।
কুয়েতের ইংরেজি দৈনিক আরব টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আলোচনা করছিলেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় কর্মীরা ঠিক সময়ে বেতন পেলেও বিদেশি কর্মীদের বেতন দিতে দেরি করা অগ্রহণযোগ্য। তার ভাষ্য, খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের বেতন না বাড়লে তারা নিজেদের ও পরিবারের খরচ কীভাবে মেটাবেন, তা নিয়োগকর্তাদের বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
বকেয়া বেতনকে শ্রমিক অসন্তোষ ও কর্মবিরতির অন্যতম প্রধান কারণ উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, গত আড়াই বছরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে বেতন পরিশোধের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। মন্ত্রী সতর্ক করেন, শ্রমিকদের বেতন দিতে দেরি করা, মানবপাচার ও অর্থপাচারের মতো কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক পরিসরে কুয়েতের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে। তাই শ্রম আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা জরুরি।
তিনি মন্তব্য করেন, বেতন না পেয়ে শ্রমিকেরা যেন প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে বাধ্য না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
কুয়েতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী কর্মীরা বেসরকারি খাতে কাজ করছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির এই সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




