ব্রাজিলে লুলার জয়ে ট্রাম্পের লাতিন আমেরিকা কৌশলে ধাক্কা

নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর লুলা দা সিলভা— রয়টার্স
লাতিন আমেরিকায় চলছে ডানপন্থী রাজনীতির বিস্তার। এরই মধ্যে ব্রাজিলের নির্বাচনে এসেছে অপ্রত্যাশিত এক ফল। প্রথম দফার প্রেসিডেন্ট ভোটে পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয় দফায় জয় পেয়েছেন বামপন্থী লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তার এই বিজয়ে শুধু ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণই বদলায়নি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আঞ্চলিক কৌশলও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
রবিবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারোকে পরাজিত করে চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ৮০ বছর বয়সী লুলা। দেশটির নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট। ফ্লাভিওর পক্ষে পড়েছে ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট। ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৩ সালে আবার ক্ষমতায় ফিরেছিলেন লুলা। এবার তার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নতুন মাত্রা পেল।
তবে এই নির্বাচনের তাৎপর্য শুধু লুলার ব্যক্তিগত সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়। লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিল কোন পথে এগোবে—ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে, নাকি নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক স্বাধীনতা বজায় রেখে—নির্বাচনটি সেই প্রশ্নকেও সামনে এনেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে লুলা সরকারের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধ এবং বলসোনারো পরিবারের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠতা এই লড়াইকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছিল।
ট্রাম্পের কৌশলে বড় ধাক্কা
লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন যেসব রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলেছে, তাদের অন্যতম বলসোনারো পরিবার। ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তার ছেলে ফ্লাভিওর নির্বাচনী প্রচারণাতেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের প্রতিশ্রুতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু লুলার জয় সেই রাজনৈতিক সমীকরণে বাধা তৈরি করেছে। কারণ, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ব্রাজিলের ভোটাররা এমন একজন নেতাকেই আবার ক্ষমতায় এনেছেন, যিনি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২৪ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্র দপ্তরের দুই কর্মকর্তা ব্রাজিলে বলসোনারো পরিবারকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। তাদের উদ্যোগে লুলা সরকারকে দুর্বল করতে পারে—এমন বিভিন্ন পদক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে চাপ তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে বর্তমান ও সাবেক ১০ মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের একজন ড্যারেন বিটি, যিনি পশ্চিম গোলার্ধবিষয়ক নীতির দায়িত্বে ছিলেন; অন্যজন রিকার্ডো পিতা। সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর বিরুদ্ধে ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয় উল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিচার ও সাজা ঘোষণার পর তাদের মনোযোগ তার ছেলে ফ্লাভিওর দিকে যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে এই প্রচেষ্টা কতটা সরাসরি হোয়াইট হাউস বা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশে পরিচালিত হয়েছিল, তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি। হোয়াইট হাউস মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের উদ্দেশ্য আমেরিকানদের অধিকার ও জীবন সুরক্ষিত রাখা। একই সঙ্গে তারা ব্রাজিলের জনগণের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নেতা বেছে নেওয়ার অধিকারের কথা বলেছে।এদিকে নির্বাচনে কাকে জয়ী হিসেবে দেখতে চান, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রকাশ্যে কোনো প্রার্থীর নাম বলেননি। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি এ বিষয়ে জড়াতে চাই না, তবে আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।’
ট্রাম্পের এই সতর্ক অবস্থানের মধ্যেও নির্বাচনের আগে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি করেছিল। ২০২৫ সালে জাইর বোলসোনারোর বিচারকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের পণ্যে শুল্ক বাড়িয়েছিল এবং দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরায়েসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। ওয়াশিংটনের এসব পদক্ষেপকে ব্রাজিলের বিচারব্যবস্থা ও সার্বভৌমত্বের ওপর চাপ হিসেবে দেখেছে লুলা সরকার।
লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থী ঢেউয়ে বিরতি
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ডানপন্থী ও রক্ষণশীল রাজনীতির উত্থান দেখা গেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টারও সম্পর্ক রয়েছে। ব্রাজিলে ফ্লাভিও বোলসোনারোর জয় হলে সেই প্রবণতা আরও শক্তিশালী হতে পারত।
ফ্লাভিওর প্রচারণায় কঠোর নিরাপত্তানীতি, রক্ষণশীল সামাজিক অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি গুরুত্ব পেয়েছিল। পাশাপাশি তিনি তার বাবা জাইর বোলসোনারোর রাজনৈতিক আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন।
অন্যদিকে লুলা তার প্রচারণায় সামাজিক সুরক্ষা, শ্রমিকদের অধিকার, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতাকে সামনে আনেন। তার জয় দেখিয়েছে, লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থীদের অগ্রযাত্রা থাকলেও তা সব দেশে একইভাবে কার্যকর হচ্ছে না।
লুলার এই অলৌকিক প্রত্যাবর্তনকে লাতিন আমেরিকার রাজনীতির ইতিহাস পরিবর্তনকারী ঘটনা হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ‘লুলার এই জয় কোনো সাধারণ দলীয় জয় নয়; এটি বামপন্থী ও চরমপন্থী-বিরোধী মধ্যপন্থীদের শক্তিশালী একটি জোটের বিজয়। প্রথম পর্বের বিশাল ব্যবধান পেরিয়ে দ্বিতীয় পর্বে এমন বিপরীতমুখী স্রোত তৈরি করা আধুনিক ব্রাজিলীয় গণতান্তিক রাজনীতিতে নজিরহীন।’
দারিদ্র্য থেকে প্রেসিডেন্ট ভবনে
লুলার রাজনৈতিক জীবনের গল্প ব্রাজিলের শ্রমিক রাজনীতি ও সামাজিক বৈষম্যের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ১৯৪৫ সালের ২৭ অক্টোবর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পেরনামবুকোর দরিদ্র পরিবারে তার জন্ম। শৈশবে পরিবারের সঙ্গে সাও পাওলোতে চলে আসেন তিনি। জীবিকার প্রয়োজনে অল্প বয়সেই পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করতে হয় তাকে।
পরবর্তী সময়ে ধাতব কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করে। ১৯৭০-এর দশকে সামরিক শাসনামলে শ্রমিক ইউনিয়নের ধর্মঘট ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি পান তিনি। ১৯৮০ সালে সহকর্মী শ্রমিক নেতা ও বামপন্থী কর্মীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেন ওয়ার্কার্স পার্টি।
১৯৮৯, ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হলেও রাজনীতি থেকে সরে যাননি লুলা। ২০০২ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তার সরকারের সময় ‘বোলসা ফ্যামিলিয়া’র মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দারিদ্র্য হ্রাস ও সামাজিক বৈষম্য মোকাবিলায় তাঁর সরকারের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পায়।
তবে তার রাজনৈতিক জীবন বিতর্কমুক্ত ছিল না। ‘অপারেশন কার ওয়াশ’ দুর্নীতিবিরোধী তদন্তের আওতায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালে কারাগারে যান তিনি। এর ফলে ওই বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। পরে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট তার দণ্ড বাতিল করে এবং মামলাগুলোর বিচারিক এখতিয়ার ও বিচারকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২০২২ সালের নির্বাচনে জাইর বোলসোনারোকে হারিয়ে আবার ক্ষমতায় ফেরেন লুলা।
২০২৬ সালের নির্বাচনে তার চতুর্থ মেয়াদের জয় সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
অনলাইন আন্দোলনই লুলার ঘুরে দাঁড়ানোর কারণ
সাও পাওলোতে তার বিজয় ভাষণে লুলা প্রচারণায় আন্দ্রে জানোনেস নামের একজন কংগ্রেস সদস্যের ‘অসাধারণ’ ভূমিকার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। মিনাস জেরাইসের ৪২ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ ‘লুলার আর্মি’ নামে একটি ভাইরাল হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলের প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রেসিডেন্টের সমর্থনে একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত ও কার্যকর অনলাইন প্রচারণার নেতৃত্ব দিয়েছেন।
গত কয়েক সপ্তাহে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলটি লুলা প্রচারণার অন্যতম প্রধান ডিজিটাল প্রচারণার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল তার অনুকূল বিষয়বস্তু প্রচার করা। নিয়মিত ভিডিও এবং মেসেজে জানোনেস ‘সৈনিক’ বলে উল্লেখ করা অংশগ্রহণকারীদের পোস্ট শেয়ার করতে এবং নতুন সদস্যদের আমন্ত্রণ জানাতে উৎসাহিত করতেন।
এই রবিবারের চূড়ান্ত পর্বের ঠিক আগে চ্যানেলটির অনুসারীর সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে যায়। সাও পাওলোতে দেওয়া ভাষণে লুলা বলেছেন, এই নির্বাচন তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে; যার মধ্যে অন্যতম হলো সামাজিক মাধ্যমের শক্তি। তিনি বললেন, ‘আমি আপনাদের সবাইকে জানাতে চাই যে, আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণকে আরও বেশি অংশগ্রহণের সুযোগ দেব এবং আমার নতুন সরকারে ডিজিটাল যোগাযোগ একটি বড় ভূমিকা পালন করবে।’সামনে লুলার কঠিন পরীক্ষা
নির্বাচনে জয় পেলেও লুলার সামনে রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ। দেশের অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং সামাজিক বৈষম্য মোকাবিলায় তাঁকে কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে রক্ষণশীল আইনপ্রণেতাদের প্রভাব থাকা কংগ্রেসে তাঁর কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন হবে।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রাখতে চাইলেও চীনসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ব্রিকসের মতো বহুপক্ষীয় জোটে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে চাইবে।
এখানেই লুলার নতুন মেয়াদের বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ বাড়ালে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে চাপ তৈরি হতে পারে। আবার ওয়াশিংটনের দাবির কাছে অতিরিক্ত ছাড় দিলে ব্রাজিলের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রতিশ্রুতি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. কার্লোস মেলো বললেন, ‘লুলা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে জটিল সমীকরণটি সমাধান করেছেন। কিন্তু ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া তার নতুন মেয়াদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে জাতীয় কংগ্রেসে, যেখানে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে বোলসোনারোপন্থী ও রক্ষণশীল দলগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। নীতি নির্ধারণে তাকে ক্রমাগত আপসের রাজনীতি করতে হবে।’
বিজয়ের পর সাও পাওলোর বিখ্যাত পাওলিস্তা অ্যাভিনিউতে জনতার উদ্দেশে আবেগঘন ভাষণে ৮০ বছর বয়সী লুলা বলেছেন, ‘নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সবার পছন্দ নাও হতে পারে, কিন্তু নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে শাসন পরিচালনা করতে হয়। আমরা ঘৃণা ও মেরুকরণের রাজনীতিকে পরাজিত করেছি। এটিই হবে আমার রাজনৈতিক জীবনের শেষ মেয়াদ।’





