যুদ্ধবিরতির পর সৌদি সফরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে বৈঠক করতে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, তিনি ‘যুদ্ধবিরতি সমর্থন ও তা বজায় রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করবেন।’ শুক্রবার তার যুক্তরাজ্যে ফেরার কথা রয়েছে।
এই যুদ্ধবিরতি আসে এমন সময়, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন ইরান যুদ্ধ শেষ করতে এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে রাজি না হলে ‘একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।’ এ মন্তব্যের পর ডাউনিং স্ট্রিট আবারও ‘উত্তেজনা কমানোর’ আহ্বান জানায়।
স্টারমার বলেছেন, ‘রাতারাতি হওয়া এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে আমি স্বাগত জানাই, যা অঞ্চল এবং বিশ্বে কিছুটা স্বস্তি আনবে।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে মিলে এই যুদ্ধবিরতিকে টিকিয়ে রাখা, স্থায়ী চুক্তিতে রূপ দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।’
তার এই উপসাগরীয় অঞ্চল সফর আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং এর অংশ হিসেবে তিনি অঞ্চলে অবস্থানরত যুক্তরাজ্যের সামরিক সদস্যদের সঙ্গেও দেখা করবেন।
যুক্তরাজ্যের বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষে ছায়া আবাসনমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি বিবিসিকে জানান, এই যুদ্ধবিরতি ইরানের জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ।’
দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার জেমস জানান, এই যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল ইরান যেন ‘কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে’, এবং এটি এখনো ‘অগ্রাধিকার’।
তিনি বলছেন, ‘আমরা এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাই, তবে এই সময় নষ্ট করা যাবে না।’
লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাজ্য ট্রাম্পকে কতটা বিশ্বাস করতে পারে। তিনি তাকে ‘সম্পূর্ণ অবিশ্বস্ত মিত্র’ বলে অভিহিত করেন।
এড জানান, হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে মানুষকে ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও কম প্রবৃদ্ধির বড় মূল্য’ দিতে হবে। তিনি যোগ করেন, ‘যা প্রয়োজন, তাই করতে হবে, তবে আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দাঁড়াতেও হবে।’
তিনি আরও বলছেন, ‘এই সমস্যার সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, তাই আমাদের এমন মিত্রদের সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাদের ওপর আস্থা রাখা যায়।’
গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্য একটি ভার্চুয়াল সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে ৪০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা যুদ্ধ শেষে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি জোট গঠনের কাজ শুরু করেন।
এরপর মঙ্গলবার একটি সামরিক পরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
















