শিক্ষার্থীদের অভিনব উদ্ভাবন, পানিতে পড়া বাস ভেসে উঠবে নিজেই

সংগৃহীত ছবি
পানিতে পড়ে যাওয়া বাসকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাসিয়ে তোলার প্রযুক্তিনির্ভর অভিনব উদ্ভাবন দিয়ে সবার নজর কাড়লেন একদল শিক্ষার্থী। তাদের তৈরি এই স্মার্ট সিস্টেমটি দুর্ঘটনার পর দ্রুত সক্রিয় হয়ে বাসটিকে পানির উপর ভাসিয়ে রাখতে সক্ষম— যা যাত্রীদের প্রাণরক্ষায় রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
বুধবার (৮ এপ্রিল) কক্সবাজারের রামু উপজেলায় আয়োজিত বিজ্ঞান মেলায় শিক্ষার্থীদের এ প্রকল্প আকৃষ্ট করেছে দর্শনার্থীদের। দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে রাব্বানী চৌধুরী।
প্রকল্পটির নির্মাতা একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহামিনা খানম রিনি ও আসরার উল্লাহ তাওহীদ।
তারা জানান, এটি একটি ধারণাভিত্তিক মডেল। প্রকল্পটির কার্যপ্রণালী অনুযায়ী, পানির স্তর বৃদ্ধি পেলেই ওয়াটার লেভেল সেন্সর শনাক্ত করবে এটি। এরপর সেই সংকেত পেয়ে সক্রিয় হবে মাইক্রোকন্ট্রোলার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড। এটি (মাইক্রোকন্ট্রোলার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড) বিভিন্ন সেন্সর ও ডিভাইস থেকে ইনপুট নিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে মোটর বা লাইটের মতো আউটপুট। এর মাধ্যমে রিলে মডিউল চালু হয়ে সচল করে এয়ার পাম্প। যা নির্দিষ্ট চেম্বারে বাতাস প্রবাহিত করে। ফলে পানির চাপ কমে গিয়ে ধীরে ধীরে ডুবে যাওয়া বাসটি ভেসে ওঠে পানির ওপরে। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, ‘আমরা এটি তৈরি করেছি খেলনা বাস, ওয়াটার সেন্সর, রিলে মডিউল, ১২ ভোল্ট ব্যাটারি, সংযোগ তার ও এয়ার পাম্পসহ সহজলভ্য উপকরণ ব্যবহার করে। ভবিষ্যতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটি বাস্তবে প্রয়োগ করা সম্ভব।’
মেলায় অংশ নিয়েছে উপজেলার প্রায় ১৯টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা প্রদর্শন করেছে নিজ নিজ স্টলে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প। পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছে বিজ্ঞান কুইজ ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুর রহমানের দাবি, রামু সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের এই উদ্ভাবনটি গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা গেলে পানিতে ডুবে যাওয়া যানবাহন উদ্ধারে খুলে যেতে পারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বরুপ মুহুরী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অসীম বরণ সেন, ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত দেবনাথ এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রুজিনা আক্তার রুমি।















