বগুড়া ৬ ও শেরপুর ৩ আসনে ভোট আজ

গ্রাফিক্স। আগামীর সময়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচন আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ভোটগ্রহণকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় নির্বাচনে যে মানদণ্ড অর্জিত হয়েছিল, এ নির্বাচনেও তার চেয়েও ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। সে সময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুটি আসনে বিজয়ী হন। পরবর্তীতে তিনি বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, তফসিল ঘোষণার পর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত হয়ে আজ সাধারণ নির্বাচন হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বগুড়া ৬ আসন
বগুড়া-৬ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) মো. আল-আমিন তালুকদার।
এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫০টি এবং ভোটকক্ষ ৮৩৫টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৯ জন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে সেনাবাহিনীর ২৫০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি বিজিবির ৮ প্লাটুন (১৮৯ জন), র্যাবের ১০টি টিম (৭০ জন), পুলিশের ১ হাজার ৩২৭ জন এবং আনসার-ভিডিপির ১ হাজার ৯৯০ জন সদস্য মাঠে থাকবেন।
শেরপুর-৩ আসন
শেরপুর-৩ আসনেও তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান।
এ আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১২৮টি এবং ভোটকক্ষ ৭৫১টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯ হাজার ৮০৬ জন। এখানে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে সেনাবাহিনীর ১৪০ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
এছাড়া বিজিবির ১৬ প্লাটুন (৩২৮ জন), র্যাবের ১৪টি টিম (১৩৫ জন), পুলিশের ১ হাজার ১৫৫ জন এবং আনসার-ভিডিপির ১ হাজার ৭০৪ জন সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
সার্বিক প্রস্তুতি ও তদারকি
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ১৮ থেকে ২০ জন করে নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ৩৬ জন নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম দায়িত্ব পালন করবেন।
দুই আসনেই ইসির নিজস্ব ১৮ জন করে পর্যবেক্ষক থাকছেন এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষক থাকবেন চার শতাধিক। পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ প্রায় ৫ হাজার প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন।
সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।















