ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিম কমিউনিটির মুখে ‘ঈদের হাসি’
- রাজ্যের ছুটির তালিকায় স্থান পেল ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা

প্রতীকী ছবি
ঈদের আগেই যেন ‘ঈদের হাসি’ ক্যালিফোর্নিয়ার মুসলিম কমিউনিটির মুখে। রাজ্যের আইনে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল মুসলিমদের দুই প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের স্বাক্ষরের পর দুই ঈদ এখন ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্য ছুটির তালিকার অংশ। ২৮ সেপ্টেম্বর অ্যাসেম্বলি বিল ২০১৭-তে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে শেষ হয় কয়েক মাসের আইনি প্রক্রিয়া।
নতুন আইনে ইসলামী চান্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী ঈদের দিন নির্ধারণ করা হবে। শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ঈদুল আজহা হিসেবে বিবেচিত হবে। সরকারি কর্মীদের বিদ্যমান ছুটি বা নির্ধারিত ছুটির সুবিধা ব্যবহার করে ঈদ পালনের সুযোগও রাখা হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ বিধান। স্থানীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সরকারি স্কুল ও কমিউনিটি কলেজ ঈদের দিনে বন্ধ রাখতে পারবে। ঈদ পালনের কারণে কোনো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে তা অনুমোদিত ছুটি হিসেবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। তবে ঈদকে বিচারিক ছুটির আওতায় রাখা হয়নি। ফলে আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে।
বিলটির যাত্রা শুরু হয় ১৭ ফেব্রুয়ারি। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ৩০ আগস্ট আইনসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায় এটি। ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর এতে স্বাক্ষর করেন নিউসম।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১০ লাখের বেশি মুসলিম বাস করেন বলে বিলটির সমর্থকেরা উল্লেখ করেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ডিয়েগো, সান ফ্রান্সিসকোসহ বিভিন্ন এলাকায় ঈদ উপলক্ষে মসজিদ, ইসলামিক কেন্দ্র ও মুসলিম সংগঠনগুলোতে প্রতিবছর বড় আয়োজন হয়। ঈদের নামাজের পাশাপাশি থাকে পারিবারিক মিলনমেলা, কমিউনিটি অনুষ্ঠান ও নানা সামাজিক কর্মসূচি।
এতদিন অনেক মুসলিম পরিবারকে ঈদের দিন কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচির সঙ্গে ধর্মীয় আয়োজনের সমন্বয় করতে হতো। নতুন আইনের ফলে রাজ্যের ছুটির কাঠামোয় আনুষ্ঠানিকভাবে স্থান পেল মুসলিমদের দুই প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে এটিকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আইনটি ঘিরে তাই ক্যালিফোর্নিয়ার মুসলিম কমিউনিটিতে তৈরি হয়েছে আনন্দের আবহ।




