নিয়ন্ত্রণের আগেই ছুটছে এআই, বিশ্বকে সতর্ক করল জাতিসংঘ

সতর্ক করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেল- রয়টার্স
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অগ্রগতি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সরকারি নীতিনির্ধারণের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হবে না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া এখন সম্ভব নয় বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেল।
বুধবার প্রকাশিত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বৈজ্ঞানিক প্যানেলের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নীতিনির্ধারকরা ক্রমেই জটিল এক বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন। এআই নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি তৈরির জন্য নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রয়োজন হলেও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সেই গবেষণা তাল মেলাতে পারছে না।
৪০ জন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠিত প্যানেলের সহসভাপতি ইয়োশুয়া বেঙ্গিও বললেন, ‘এআইয়ের সক্ষমতা বৈজ্ঞানিক বোঝাপড়া এবং সরকারগুলোর অভিযোজন ক্ষমতা—উভয়কেই ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’
তিনি বললেন, ‘এআইয়ের প্রতারণামূলক আচরণের প্রমাণ ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমান বৈজ্ঞানিক জ্ঞান দিয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না যে, এর সক্ষমতা আরও বাড়লে এআই নিজে থেকে অথবা অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে কোনো ভয়াবহ ক্ষতি ঘটাবে না।’
প্রতিবেদনটিকে এআইয়ের ঝুঁকি ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রথম বৈশ্বিক স্বাধীন মূল্যায়ন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো দ্রুত পরিবর্তনশীল এই প্রযুক্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারগুলোকে সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন সরবরাহ করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদে এমন ‘এজেন্টিক এআই’ ব্যবস্থার বিস্তার ঘটবে, যা বাস্তব বিশ্বের বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে। তবে জ্বালানির সীমাবদ্ধতা এবং উচ্চমানের তথ্যের ঘাটতির কারণে এই অগ্রগতি কিছুটা ধীর হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, আত্মোন্নয়ন সক্ষম এআই অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে আরও গভীরভাবে যুক্ত হবে এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও জৈবপ্রযুক্তির মতো উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বিত হয়ে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করবে।




