সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের মক্কা চুক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে কী মিত্ররা

ছবি: রয়টার্স
মক্কায় শুক্রবার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে দেশ তিনটি যৌথ প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরোধ চুক্তি’তে সই করেছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কী রয়েছে চুক্তিতে?
চুক্তির মাধ্যমে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এর আওতায় তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
পারস্পরিক প্রতিরোধের পাশাপাশি সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ানোর কথা রয়েছে চুক্তিতে। জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনেও সহযোগিতার কাঠামো তৈরি করা হবে।
তিন দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে। এর মধ্যে সৌদি আরবের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা কমানোর বিষয়টিও রয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তিন দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ভ্রাতৃত্ব ও ইসলামী সংহতির বন্ধন এবং অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থ ও দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ভিত্তিতে এই চুক্তি করা হয়েছে।
এখনই কেন এই চুক্তি?
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই এই চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানকে ঘিরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং গাজা সংঘাত।
সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপরও কিছু দেশের আস্থার ঘাটতি সামনে এনেছে। এসব ব্যবস্থার অনেকটাই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশ্লেষক ওজগুর উনলুহিসারচিকলি বলেছেন, বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে যাওয়ার সময়ে এই চুক্তি আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার আগ্রহের প্রতিফলন।
সৌদি আরব ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর হামলার মুখে পড়েছে। এর মধ্যে ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনও রয়েছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনায় তুরস্ক ও পাকিস্তান সরাসরি একই মাত্রায় আক্রান্ত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণে তিন দেশেরই এমন একটি নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার অভিন্ন স্বার্থ তৈরি হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে পারে।
আল-জাজিরার সাংবাদিক রেসুল সারদার বলেছেন, কয়েকটি প্রয়োজনীয়তা একই সময়ে সামনে আসায় তিনটি বড় দেশকে একত্র হয়ে এই বাধ্যতামূলক চুক্তিতে সই করতে হয়েছে।
তিন দেশ একে অপরকে কী দেবে?
তিন দেশের সামরিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সক্ষমতা ভিন্ন। তবে এসব সক্ষমতা একে অপরের পরিপূরক হতে পারে।
তুরস্কের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প রয়েছে। ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনীও দেশটির। তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, নৌযান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন বাড়িয়েছে।
সৌদি আরব এই অংশীদারিত্বে বিপুল অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে আসছে। বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে দেশটির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবও ব্যাপক।
অন্যদিকে পাকিস্তানের রয়েছে দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানই একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র। ফলে এই অংশীদারিত্বে বাড়তি কৌশলগত প্রতিরোধ সক্ষমতাও যুক্ত হচ্ছে।
আল-জাজিরার সাংবাদিক ওসামা বিন জাভেদ বলেছেন, তিন দেশ একসঙ্গে এমন একটি শক্তি তৈরি করছে, যা গত কয়েক দশকের বিদ্যমান ব্যবস্থার চেয়ে ভিন্ন একটি নিরাপত্তাব্যবস্থার দিকে অঞ্চলটিকে নিয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইরান যুদ্ধ ঘিরে সৃষ্ট অস্থিরতার পর মক্কা চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরব নিজেদের সামরিক ও নিরাপত্তা কৌশল নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনীহা নাকি নতুন সমীকরণ
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির বিশ্লেষক সিনা তোসি আল-জাজিরাকে বলেছেন, মক্কা চুক্তিকে এ ক্ষেত্রে প্রথম বড় ভূরাজনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখা যেতে পারে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থা নতুন রূপ নিতে শুরু করেছে।
তোসি বলেছেন, চুক্তিটির গুরুত্ব শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তাঝুঁকি নতুন করে মূল্যায়ন করছে—এমন একটি বার্তাও পাওয়া যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তোসি। কয়েক দশক ধরে অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারত্ব রয়েছে। তবে মক্কা চুক্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সৌদি আরব এখন তার নিরাপত্তা অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করতে চাইছে।
তোসির ব্যাখ্যায়, ওয়াশিংটনের ওপর এককভাবে নির্ভর না করে সৌদি আরব অন্য অংশীদারদের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে এবং আঞ্চলিক ভিত্তিতে একটি নতুন নিরাপত্তাকাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে। তার মতে, চুক্তিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি এটি।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, আঞ্চলিক অংশীদারদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় না নিয়েই গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল।
এরপর ইরানি বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এসব হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটে। পাশাপাশি জ্বালানি ও পানি পরিশোধনাগারসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার তেহরানের সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক হামলার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার বড় অংশ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে ইরান। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন তার মিত্রদের প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা গোলাবারুদ সরবরাহে চাপের মুখে পড়ে। কারণ, এসব গোলাবারুদের বড় একটি অংশ ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছিল।
সৌদির নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প কেন গুরুত্বপূর্ণ?
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সৌদি আরবের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো।
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সরঞ্জামের জন্য বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে পারলে সেই নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশটি নিজস্ব শিল্প ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বাড়াতে পারবে।
হাসান কালিয়নজু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুরাত আসলান বলেছেন, সৌদি আরব কয়েক দশক ধরে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির ক্ষেত্রে ব্যয়ও বেশি। তাই সৌদি আরবের নিজেদের প্রতিরক্ষা খাত গড়ে তোলা প্রয়োজন।
এই উদ্যোগে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও অন্যান্য শিল্প সহযোগিতার মাধ্যমে তুরস্ক ও পাকিস্তান ভূমিকা রাখতে পারে।
চুক্তিটি কি ইরান বা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে?
চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো এটিকে নির্দিষ্ট কোনো দেশের বিরুদ্ধে জোট নয়, বরং প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে চুক্তির সময় ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে এর বৃহত্তর প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইরানের কর্মকর্তারা চুক্তিটির সমালোচনা করেছেন। ইরানের সংসদ সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি বলেছেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাগজে চুক্তি করলেই সৌদি আরব নিরাপত্তা পাবে না। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একতরফা নির্ভরতাও সৌদি আরবকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি।
ইসরায়েলের কয়েকজন বিশ্লেষক এই নতুন অংশীদারিত্বকে ‘শত্রুভাবাপন্ন সুন্নি জোট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের উদ্বেগ, এর মাধ্যমে নতুন একটি আঞ্চলিক জোট গড়ে উঠতে পারে।
তবে তুরস্কের কর্মকর্তারা বলেছেন, চুক্তিটি পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক এবং অন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্যও এতে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
এরদোয়ানও ইসরায়েলের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান ‘যুদ্ধকামী ইসরায়েলি সরকারকে’ আবারও এই অঞ্চলকে বারুদের গন্ধ ও রক্তে ডুবিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আসতে পারে?
চুক্তিটি তিন দেশকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা সমন্বয় এবং ভবিষ্যতের হুমকি যৌথভাবে মোকাবিলার একটি কাঠামো দিতে পারে।
সৌদি আরবের জন্য তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বাইরে আরও কিছু বিকল্প তৈরি করতে পারে।
তুরস্কের ক্ষেত্রে চুক্তিটি উপসাগরীয় অঞ্চলে দেশটির প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি দুটি গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করতে পারে।
পাকিস্তানের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও বাড়বে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়াসমিন ফারুক বলেছেন, এই ঘনিষ্ঠতার পেছনে এমন একটি উপলব্ধি কাজ করছে যে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং অন্যদিকে ইরানের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর নিজেদের আশপাশের নিরাপত্তা আর ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
তবে এই চুক্তি বিদ্যমান জোট বা নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে সরাসরি প্রতিস্থাপন করবে—এমন নয়। বরং এর মাধ্যমে তিন দেশ আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নির্ধারণে নিজেদের ভূমিকা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তারা বাইরের শক্তির ওপর এককভাবে নির্ভরশীল না হওয়ার পথও খুঁজছে।
এরপর কী?
এখন চুক্তিটি কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, জ্বালানি এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।
এই প্রতিশ্রুতিগুলো দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতায় রূপ নেয় কি না এবং ভবিষ্যতে কোনো সংকটে যৌথ প্রতিরোধব্যবস্থার বিধান বাস্তবে প্রয়োগের প্রয়োজন হয় কি না, তার ওপরই চুক্তিটির প্রকৃত গুরুত্ব অনেকটা নির্ভর করবে।
তবে আপাতত, আঞ্চলিক অনিশ্চয়তা বাড়ার সময়ে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মতো তিনটি প্রভাবশালী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নিরাপত্তানীতি সমন্বয়ের এটি একটি আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ।




