সীমান্তে দুই পাকিস্তানি নিহত, ভারতীয় কূটনীতিককে তলব

ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক সীমান্তে দুই পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতের কূটনীতিককে তলব করেছে পাকিস্তান। শুক্রবার পাঞ্জাবের বেদিয়ান সেক্টরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে ওই দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ইসলামাবাদ। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শনিবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের ওপর বিএসএফ ‘উসকানিহীন ও প্রাণঘাতী শক্তি’ প্রয়োগ করেছে।
ঘটনাটিকে ‘সম্পূর্ণ অন্যায্য ও মাত্রাতিরিক্ত’ বলেও মন্তব্য করেছে তারা। তবে এ বিষয়ে ভারতের সরকারের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য নিহতদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে বর্ণনা করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে।
একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে দ্রুত, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়েছে ইসলামাবাদ। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তদন্তের ফল পাকিস্তানকে জানানোর আহ্বানও জানিয়েছে তারা।
ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে গত দেড় বছরে একাধিক সংঘাত ও বিরোধকে ঘিরে। এর মধ্যে পানিবণ্টন নিয়ে বিরোধও গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর দিল্লি পাকিস্তানকে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে। পাকিস্তান ওই অভিযোগ অস্বীকার করে। হামলার পর ভারত ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানিচুক্তিতে অংশগ্রহণ স্থগিত করে।
সিন্ধু পানিচুক্তির আওতায় সিন্ধু, ঝিলম, চেনাব, রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কাঠামো নির্ধারিত রয়েছে। চুক্তি স্থগিতের ভারতীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ বলে আসছে, নদীর পানির প্রবাহে বাধা দেওয়া হলে তা পাকিস্তানের পানি নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করবে।
পেহেলগাম হামলার পর দুই দেশের সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যায়। মে মাসে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এরপর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কয়েক দিনের তীব্র সামরিক সংঘাত হয়। ১০ মে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
এরপরও পানি কাশ্মীর ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ বেদিয়ান সেক্টরে দুই পাকিস্তানি নিহত হওয়ার ঘটনা সেই উত্তেজনার মধ্যেই ঘটল। তবে শুক্রবারের ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং নিহত ব্যক্তিরা সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন কি না, তা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা ও রয়টার্স




