শেষ ধাপের নির্বাচন
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ফের সহিংসতা, স্থগিত অধিকাংশ আসনের ভোট

পাকিস্তানি কাশ্মীরের নাগরিক সমাজ গোষ্ঠীগুলোর জোট এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএএসির সমর্থনে ১ আগস্ট করাচিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়- রয়টার্স
রাস্তায় সংঘর্ষের ক্ষত এখনো শুকায়নি, এর মধ্যেই ব্যালট বাক্স ঘিরে নতুন উত্তেজনা পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে। প্রাণঘাতী বিক্ষোভ, সড়ক বন্ধ ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার কয়েক সপ্তাহ পর সোমবার সেখানে আঞ্চলিক পরিষদের তৃতীয় দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ভোটের দিনও কাটেনি স্বস্তিতে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্বেগে ১১টির মধ্যে সাতটি আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। একই সঙ্গে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। ফলে যে নির্বাচনকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে ফেরার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেটিই এখন নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে বিভিন্ন সড়ক বন্ধ হয়ে যায় এবং ইন্টারনেট পরিষেবাও বিচ্ছিন্ন ছিল। বিষয়টি পাকিস্তানের জন্য বিশেষভাবে স্পর্শকাতর। কারণ, ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ তুলে নিয়মিতই নয়াদিল্লির সমালোচনা করে ইসলামাবাদ। এবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ডেই ক্ষোভের মুখে পড়েছে পাকিস্তান।
সোমবারের ভোট হওয়ার কথা ছিল তিন দফার নির্বাচনের শেষ পর্ব। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর গত সপ্তাহের শেষ দিকে বাকি ১১টির মধ্যে সাতটি আসনের ভোট স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা রাজা শাকিল রয়টার্সকে ফোনে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে নতুন ভোটের তারিখ জানানো হয়নি।
আগের দুই দফার ভোটে ৩৪টি আসনের মধ্যে ২৪টিতেই জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)। ফলে আঞ্চলিক সরকার গঠনের পথে দলটি অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।
পিপিপির নেতা হাসান মুর্তজা বললেন, ‘অনেক ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বিলম্বিত হয়েছে।’ তার দাবি, এটি নির্বাচনে কারচুপির ইঙ্গিত।
তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন পিএমএল-এনের নেতা রানা সানাউল্লাহ। তিনি অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন, ‘পিএমএল-এন সরকার গঠন করবে।’
এরই মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেছেন। পাঁচ বছর আগে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল পিটিআই। এবার কারচুপির অভিযোগ তুলে দলটির প্রার্থীরা ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রথম দফার ভোটের পর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির নেতারা আন্দোলন আরও জোরদার করেন। সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে রাওয়ালকোটে নিহত হয়েছে অন্তত ৩০ জন।






