বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ১০

বেলুচিস্তানের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে তত্ত্বাবধানে ব্যস্ত এক সেনা সদস্য। ফাইল ছবি / রয়টার্স
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের খুজদার জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১০ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন। শনিবার দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।
নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, খুজদারের শোর পারোদ পার্বত্য এলাকায় সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ভারত-সমর্থিত প্রক্সি সংগঠন ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সদস্যদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গোলাগুলি হয়। এ সময় অন্তত ১০ জন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
নিরাপত্তা সূত্র আরও জানিয়েছে, দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদের হুমকি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাবে নিরাপত্তা বাহিনী।
এর তিন দিন আগে বেলুচিস্তানের সুরাব জেলায় বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি প্রস্তুতের সময় তা আগেভাগে বিস্ফোরিত হয়ে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর অন্তত আট সদস্য নিহত হন। পরে নিরাপত্তা বাহিনী ওই অভিযানে পালিয়ে যাওয়া কয়েকজনের গতিবিধি শনাক্ত করে আরও ১০ জনকে হত্যা করে।
২০২১ সালে আফগান তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানে, বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) ও বেলুচিস্তান প্রদেশে সন্ত্রাসী তৎপরতা বেড়েছে।
সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (সিআরএসএস) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কেপি ও বেলুচিস্তান পাকিস্তানে সহিংসতার প্রধান কেন্দ্র ছিল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কেপি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই প্রান্তিকে দেশজুড়ে সহিংসতায় যত মানুষ নিহত হয়েছেন, তার প্রায় ৯৬ শতাংশই কেপি ও বেলুচিস্তানের। মোট নিহতদের ৬১ শতাংশের বেশি, অর্থাৎ ৪৭৫ জন, কেপিতে এবং ৩৪ শতাংশ বা ২৬৫ জন বেলুচিস্তানে নিহত হয়েছেন।
সহিংসতার ঘটনাতেও কেপি ছিল শীর্ষে। প্রদেশটিতে ১৫১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা জাতীয় মোটের ৫৭ শতাংশ। বেলুচিস্তানে ঘটেছে ৯৪টি, যা মোট ঘটনার ৩৫ শতাংশ। এতে দেশটির এই দুই প্রদেশেই সশস্ত্র তৎপরতার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকার চিত্র উঠে এসেছে।
সূত্র : জিও নিউজ






