১১ জুলাই ইসলামাবাদে বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

২০২৬ সালের ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের আগমনকালে একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তার ছবি। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার কারিগরি আলোচনার জন্য প্রধান ভেন্যু হিসেবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের নাম উঠে আসছে। আগামী ১১ জুলাই ইসলামাবাদে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হতে পারে এ বৈঠক।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন-কে জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ মেটাতে এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সচল রাখতেই এই আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কারিগরি আলোচনার জন্য দুটি সম্ভাব্য স্থান নিয়ে ভাবা হচ্ছে—ইসলামাবাদ এবং সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্ট। তবে সংশ্লিষ্ট একজন কূটনৈতিক বলেছেন, তবে ইসলামাবাদই হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী ১১ জুলাই এই কারিগরি আলোচনা শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও ভেন্যু নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি।
আলোচনায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি।
এছাড়া হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং লেবাননে সম্প্রতি হওয়া যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার মতো আঞ্চলিক ইস্যুগুলো নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের’ অংশ হিসেবেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছাতে উভয় পক্ষকে ৬০ দিন সময় দিয়েছে।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানের কারণে এই আলোচনা সাময়িকভাবে পিছিয়ে গেছে।
তেহরান জানিয়েছে, শোক অনুষ্ঠান শেষে তারা তাদের প্রতিনিধি দলের নাম ঘোষণা করবে। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে দোহায় দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনাকে খুব ‘ভালো বলে’ অভিহিত করেছেন। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, জব্দ করা ইরানি সম্পদ আংশিক ছাড় দেওয়ার বিষয়ে একটি বোঝাপড়া হয়েছে, তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এমন কোনো চুক্তির খবর অস্বীকার করেছেন।
কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা এই বিরতির সময়েও পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতা করেছিল, যা একটি ‘রোডম্যাপ' তৈরি করতে সাহায্য করেছে।
যদিও আলোচনায় অগ্রগতির খবর পাওয়া যাচ্ছে, তবুও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তজনাপূর্ণ সম্পর্কের কারণে প্রক্রিয়াটি এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে। কারিগরি দল বিস্তারিত কাজ শেষ করার পর জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে দোহায় পরবর্তী দফার উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সূত্র : ডন





