ইরানে আরও বড় হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

সংগৃহীত ছবি
টগবগ করে ফুটছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কড়াই। রাত নামলেই ইরানের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের ঝলক। পাল্টাপাল্টি হামলায় ভারী হয়ে উঠেছে পারস্যের বাতাস। যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে গত শনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগের রাতের তুলনায় এবার হামলার তীব্রতা ছিল আরও বেশি। এখানেই শেষ নয়— ইরানে আরও ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফুঁসে উঠেছে ইরানও। গতকাল রবিবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোয় আঘাত হেনেছে তারা। খবর : আলজাজিরা, রয়টার্স ও সিএনএন।
হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগে এদিন ইরানের ১০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। দফায় দফায় বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক, বন্দর-ই লেঙ্গাহ ও কেশম দ্বীপ।
মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, উপকূলীয় রাডার সাইট, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন সংরক্ষণকেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালায়। হাত গুটিয়ে থাকেনি ইরানও। পাল্টা হামলা চালায় বাহরাইনের বন্দর সালমানের মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে।
গতকাল ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে তারাও পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের দাবি, মার্কিন হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান সব ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত শনিবার হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে ইরানি ড্রোন হামলার পর তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালায়। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দিয়েছেন কড়া হুঁশিয়ারি। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ইরান যদি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রাখে, তাহলে এমন সময় আসতে পারে, যখন যুক্তরাষ্ট্র আর সংযত থাকবে না। প্রয়োজনে সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ করা হবে, তখন ইরানের আর অস্তিত্ব থাকবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আরও ৩০ দিন এ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। তিনি বললেন, ‘সব বাধা দূর হওয়ার পরই প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে কাজ চলছে।’ গতকাল ইরাক সফরে থাকাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে একটি নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বাইরের কোনো দেশ বা শক্তির এই কাঠামো তৈরিতে হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি আরও জানান, আগামী ৩০ দিন হরমুজ প্রণালি ইরানের পূর্ণ তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনাধীন থাকবে।
হরমুজে নিরাপত্তা কাঠামো গঠন নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এই দায়িত্ব ইরানের। এ বিষয়ে অন্য কোনো পক্ষ বা দেশের কোনো ভূমিকা নেই। কোনো একতরফা ব্যবস্থা বা কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হতে পারে।’




