জাতিসংঘের প্রথম নারী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে সরে দাঁড়ালেন বাশেলে

মেক্সিকো সিটিতে চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলে। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড় থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলে। এর মধ্যদিয়ে ৮০ বছরের ইতিহাসে জাতিসংঘের প্রথম নারী মহাসচিব হওয়ার প্রচেষ্টা শেষ হলো তার।
৭৪ বছর বয়সী বাশেলে শনিবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তিনি বলেছেন, ‘আজ আমি ঘোষণা করছি, জাতিসংঘের মহাসচিব পদে প্রার্থিতা আর চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘সময়টা হয়তো ঠিক ছিল না’, তবে এমন একটি প্রার্থিতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করার জন্য তার কোনো অনুশোচনা নেই।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের তৃতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটের পর বাশেলের এ সিদ্ধান্ত এসেছে। শুক্রবারের ওই ভোটে তিনি মাত্র একটি ‘সমর্থন’ ভোট পেয়েছেন। বিপরীতে ১১টি ভোট পড়েছে ‘বিরোধিতা’ এবং তিনটি ‘মতামত নেই’। জুলাইয়ে প্রথম দফার ভোটে তিনি ছয়টি এবং আগস্টে দ্বিতীয় দফায় দুটি ‘সমর্থন’ ভোট পেয়েছিলেন।
তৃতীয় দফার ভোটে কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান সবচেয়ে বেশি ৯টি ‘সমর্থন’ ভোট পেয়েছেন। গায়ানার ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বিরকেট পেয়েছেন আটটি। গ্রিনস্প্যান জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা ইউএন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এখনো প্রার্থিতায় রয়েছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল এবং ইকুয়েডরের কূটনীতিক মারিয়া ফের্নান্দা এস্পিনোসা। জাতিসংঘের তালিকায় আরও কয়েকজন প্রার্থীর নাম রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ পেতে কোনো প্রার্থীকে ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৯ জনের সমর্থন পেতে হবে। একই সঙ্গে পাঁচ স্থায়ী সদস্য— চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো একটি দেশের ভেটোও এড়াতে হবে। এরপর সাধারণ পরিষদের ভোটে মহাসচিব নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
চিলি গত ফেব্রুয়ারিতে বাশেলের নাম প্রস্তাব করেছিল। ব্রাজিল ও মেক্সিকোও তার প্রার্থিতাকে সমর্থন করেছিল। লাতিন আমেরিকা থেকে এর আগে শুধু পেরুর হাভিয়ের পেরেজ দে কুয়েলার জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। অঞ্চলভিত্তিক অনানুষ্ঠানিক পালাবদলের হিসেবেও এবার লাতিন আমেরিকার পালা ছিল।
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর। তার উত্তরসূরিকে যুদ্ধ, সংঘাত ও অন্যান্য বৈশ্বিক সংকটের পাশাপাশি জাতিসংঘের আর্থিক সংকটও সামলাতে হবে।
গুতেরেস চলতি বছর সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, জাতিসংঘ ‘আসন্ন আর্থিক ধসের’ মুখে রয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সদস্যদেশগুলোর কাছ থেকে জাতিসংঘের বকেয়া চাঁদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫৭ কোটি ডলার। অল্পসংখ্যক দেশ তাদের চাঁদা পুরোপুরি পরিশোধ করেছে।
এদিকে আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে বিশ্বনেতারা নিউ ইয়র্কে জড়ো হচ্ছেন। মঙ্গলবার শুরু হবে এবারের অধিবেশন। এর প্রতিপাদ্য ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন মোকাবিলা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’।
গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভূরাজনৈতিক বিভাজন নিরাপত্তা পরিষদকে অচল করে দিচ্ছে। গাজা, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন সংকটে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। তার মতে, নিরাপত্তা পরিষদের কিছু বড় শক্তি নিজেরাই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং একই সঙ্গে পরিষদের সদস্য হিসেবে বসে আছে।
সূত্র : আল জাজিরা




