জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় সাহায্য করেছে চীনা স্যাটেলাইট

হামলায় চীনা উৎস থেকে পাওয়া উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ইমেজ ব্যবহার করেছিল ইরান। ছবি: সংগৃহীত
জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে চীনা উৎস থেকে পাওয়া উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ইমেজ ব্যবহার করেছিল ইরান। গত জুলাইয়ে চালানো ওই হামলায় নিহত হন তিন মার্কিন সেনা। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ১৭ জুলাই চালানো হামলার সঙ্গে চীনা উৎসের স্যাটেলাইট ইমেজের যোগসূত্র পেয়েছে ওয়াশিংটন। তবে এ ঘটনায় চীন সরকার সরাসরি জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন কর্মকর্তারা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, হামলার আগে ও পরে উভয় সময়েই ইরান ওই স্যাটেলাইট ইমেজ সংগ্রহ করেছিল। তবে চীনের কোন কোন প্রতিষ্ঠান এসব চিত্র সরবরাহ করেছে, তা জানাননি তারা।
ওই হামলায় ঘাঁটির সেনাদের আবাসিক অংশে আঘাত হানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। সে সময় মার্কিন সেনারা ঘুমাচ্ছিলেন। এতে তিন সেনা নিহত ও চারজন আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘাঁটিতে চালানো তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি ছিল এটি। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক প্রাণহানিও ঘটে এই হামলায়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান ঘাঁটির তিনটি অংশের ক্ষয়ক্ষতির উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি প্রকাশ করে। সংবাদপত্রটির পর্যালোচনা করা বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইমেজে ঘাঁটির ২০টির বেশি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিত্র দেখা গেলেও ইরানের প্রকাশ করা ছবিগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির আরও বিস্তারিত তথ্য ছিল।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের আগে প্রকাশ পেল এই তথ্য। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্যাটেলাইট ইমেজসংক্রান্ত তথ্য চীনা কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন তারা। তবে বেইজিং এ বিষয়ে প্রমাণ দাবি করে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগগুলোকে ‘অন্য দেশকে বিদ্বেষপূর্ণভাবে জড়িয়ে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সংবাদপত্রটিকে বলেন, বাইরের কোনো সহায়তা ইরানের মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সক্ষমতা বাড়ায়নি। তবে স্যাটেলাইট ইমেজের অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরানকে লক্ষ্য নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্য দিচ্ছে কি না চীন। তিনি সরাসরি উত্তর ‘না’ দিয়ে বলেন, চীনের কর্মকাণ্ড সংঘাতের গতিপথ পরিবর্তন করেনি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সঙ্গে কথা বলা বিশ্লেষক ও সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে ইরানের সক্ষমতা বাড়াতে উপগ্রহচিত্র সম্ভবত একাধিক গোয়েন্দা উৎসের মধ্যে একটি ছিল। এসব উৎসের মধ্যে ইরানের নিজস্ব উপগ্রহ, মানব গোয়েন্দা তথ্য এবং রাশিয়ার সহায়তাও থাকতে পারে।
সংঘাতের শুরুর দিকে ইরানের রাডার ও উপগ্রহব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে দেশটির যুদ্ধক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্যর্থ হচ্ছিল। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, গ্রীষ্মকালে ইরানের লক্ষ্যভেদী হামলার নির্ভুলতা বাড়তে দেখা গেছে।
এর আগে গত মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন মিজারভিশন, আর্থআই ও চাং গুয়াং নামে তিনটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইরান মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে, এমন উপগ্রহচিত্র সরবরাহ বা প্রকাশের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর চাং গুয়াংয়ের বিরুদ্ধে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সহায়ক উপগ্রহচিত্র সরবরাহের অভিযোগও করেছিল। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানকে চীন ও রাশিয়ার কথিত সহায়তার বিষয়ে কংগ্রেসের গোয়েন্দা কমিটিগুলোকে অবহিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।




