ইসরায়েলে সরকার গঠনের স্পষ্ট পথ নেই, সামনে যেসব সম্ভাবনা

প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দী আইজেনকোট ও নেতানিয়াহু ভোট দিচ্ছেন— রয়টার্স
এ সপ্তাহে ইসরায়েলের নির্বাচনে কোনো পক্ষই স্পষ্ট জয় পায়নি। সরকার গঠনের মতো অবস্থানে নেই কোনো দল বা জোট। তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাওয়া বিরোধীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে পার্লামেন্টে।
এমন এক পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের পর তৈরি হতে পারে বিভিন্ন রকম পরিস্থিতি।
আবার নির্বাচন
আগামী সপ্তাহে নির্বাচনের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের পর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন। এরপর তার বিবেচনায় সরকার গঠনের সবচেয়ে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে—এমন একজন প্রার্থীকে দায়িত্ব দেবেন।
ওই প্রার্থী ব্যর্থ হলে অন্য কেউ চেষ্টা করতে পারবেন। তিনিও ব্যর্থ হলে নেসেট বা পার্লামেন্ট অন্য প্রার্থীকে মনোনীত করতে পারবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য প্রায় ১০০ দিনের সময়সীমা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কেউ সরকার গঠনে সফল না হলে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
হারজগ বুধবার বলেছেন, নতুন নির্বাচন এড়াতে সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে। দলগুলোর প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, তার সঙ্গে আলোচনায় যেন তারা খোলা মন নিয়ে আসে।
জাতীয় ঐক্যের সরকার
নেসেটে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে আসা নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি একটি জোট সরকার গঠন করতে পারে। এতে মধ্যপন্থী ও ডানপন্থী বিরোধী দলগুলোরও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব দলের মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার, আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল আওয়ার হোম এবং নাফতালি বেনেটের টুগেদার জোট।
এই দলগুলো এক হলে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ৬৬টি আসন পাবে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট।
তবে আপাতত এই সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে হচ্ছে। কারণ, এমন সরকার গঠন করতে হলে নেতানিয়াহুকে তার স্বাভাবিক রাজনৈতিক মিত্র—উগ্র ডানপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোকে ছেড়ে আসতে হতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোকে ভোটারদের কাছে দেওয়া নির্বাচনের প্রধান প্রতিশ্রুতি—নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করা—থেকে সরে আসতে হবে।
তবু কয়েক সপ্তাহ ধরে দীর্ঘ আলোচনা চলার পরও কোনো পক্ষ সরকার গঠন করতে না পারলে শেষ বিকল্প হিসেবে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠিত হতে পারে।
ইরান বা অন্য কোনো পক্ষের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলেও দুই পক্ষ কাছাকাছি আসতে পারে।
আইজেনকোটের সংখ্যালঘু সরকার
হারজগ প্রথমে আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিলে তিনি তার স্বাভাবিক মিত্র—টুগেদার, ডেমোক্র্যাটস ও ইসরায়েল আওয়ার হোমকে নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ইসরায়েলের দুটি আরব দল—রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট সরকারের বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে।
সর্বশেষ ভোট গণনা অনুযায়ী, আইজেনকোটের শিবিরের আসনসংখ্যা ৪৮। আরব দল দুটির আসন ১৯। সব মিলিয়ে ৬৭টি আসন হবে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট।
তবে নির্বাচনী প্রচারে আরব দলগুলোকে সরকারে না রাখার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে আইজেনকোট তাদের সমর্থন নিলেও অনেক ইসরায়েলির কাছে তা গ্রহণযোগ্য করা কঠিন হবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের আরব সংখ্যালঘুদের বিষয়ে অনেক ইসরায়েলির মনোভাব আরও কঠোর হয়েছে।
নেতানিয়াহু নির্বাচনী প্রচারে আরব দলগুলোর সমর্থনকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। মঙ্গলবারের নির্বাচনে দলগুলো রেকর্ডসংখ্যক আসন পাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত মধ্য-বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস পার্টিই প্রকাশ্যে তাদের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে কথা বলেছে।
আরব দল দুটি অবশ্য আইজেনকোটের শিবিরের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
২০২১ সালে বেনেটের সরকারে যোগ দিয়েছিল রা’আম। তখনই প্রথমবারের মতো একটি স্বতন্ত্র আরব দল ইসরায়েলের জোট সরকারে অংশ নেয়। তবে ১৮ মাস পর ওই সরকারের পতন ঘটে।
ডানপন্থী সরকার গঠনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করতে পারেন নেতানিয়াহু
সর্বশেষ নির্বাচনী ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা আগের ৬৪ থেকে কমে ৫৩ হয়েছে। তবে ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রীকে দেশটির অন্যতম দক্ষ রাজনীতিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিরোধী দলগুলোর সদস্যদের নিজের পক্ষে টেনে এনে তিনি তাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করতে পারেন।
অতীতেও এমন করেছেন নেতানিয়াহু। ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের নেতা থাকাকালে তিনি প্রতিপক্ষের শিবির থেকে সদস্যদের নিজের পক্ষে টেনেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।
তবে সে সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল অনেক কম। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে তখন খুব বেশি সদস্যকে নিজেদের দলে টানার প্রয়োজনও হয়নি নেতানিয়াহুর।





