গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত, পশ্চিম তীরে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি

২৩ অক্টোবর ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে গুলির ঘটনার পর ইসরায়েলি বাহিনী এলাকাটি পাহারা দিচ্ছে— রয়টার্স
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে সামরিক চেকপোস্টে বন্দুকধারীদের গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। হামলায় জড়িত সন্দেহে দুই ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী।
হেবরন শহরের উত্তর প্রবেশপথের একটি সামরিক চেকপোস্টে শুক্রবার ভোরে এ হামলা হয়। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বন্দুকধারীদের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাদের তীব্র গোলাগুলির দৃশ্য দেখা গেছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, নিহত সেনারা হলেন স্টাফ সার্জেন্ট রন ইয়োনাতান রয়টম্যান ও সার্জেন্ট ইউভাল শাই স্বিলেম। আহত তিন সেনার অবস্থা গুরুতর নয়। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
হামলার পর হেবরন শহরে অবরোধ জোরদার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। শহরের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরটিতে বিভিন্ন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিন ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে সেনারা। অভিযানের সময় কয়েকজনকে মারধরও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, হামলার পর অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে পূর্ণ অবরোধের প্রস্তুতি নিতে সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হেবরন শহরে অবিলম্বে অবরোধ আরোপের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান।
নেতানিয়াহু বলেন, ১৯৬৭ সালের পর নজিরবিহীন একটি বড় সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করেছেন তিনি। তিনি বললেন, ‘পশ্চিম তীরে ব্যাপক পরিসরের একটি অভিযান পর্যালোচনা করেছি, যা ১৯৬৭ সালের পর নজিরবিহীন হবে। এটি কখন বাস্তবায়ন করা হবে, সেই সময় আমরা বেছে নেব।’
ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও হামলাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দ্য টাইমস অব ইসরায়েল-এর প্রকাশিত তার বক্তব্যে তিনি বলেছেন, ‘আমরা কঠোর পদক্ষেপ নেব, ধাওয়া করব এবং হামলার সঙ্গে জড়িত সবাইকে খুঁজে বের করব। সব ফ্রন্টে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও সতর্কাবস্থায় রয়েছি।’ আসন্ন নির্বাচনের আগে সংবেদনশীল সময়ে শত্রুপক্ষকে পরিস্থিতি প্রভাবিত করতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হামলার পর পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা হয়েছে। হেবরনের আশপাশে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থলের কাছে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়েও ইসরায়েলি বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স



