Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
৫ বন্ধুর হাতে কতকিছুর সুরক্ষা
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় মধ্যপ্রাচ্য

ফের শুরু ইয়েমেনের যুদ্ধ, পরিস্থিতি কতটা জটিল?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
agamir somoy
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭
শেয়ার করুন:
ফের শুরু ইয়েমেনের যুদ্ধ, পরিস্থিতি কতটা জটিল?

ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় লাহিজ প্রদেশের আল-আনাদ বিমানঘাঁটি থেকে একটি ট্যাংক সরিয়ে নিচ্ছেন সরকার অনুগত দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিরোধ বাহিনীর সদস্যরা। ফাইল ছবি: রয়টার্স

চার বছর ধরে ইয়েমেনে বড় ধরনের লড়াই অনেকটা বন্ধ ছিল। একটু স্বস্তি পেয়েছিল মানুষও। এখন সেই নীরবতা ভেঙে গেছে।

ইয়েমেনে আবার বড় যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লড়াই ছড়িয়ে পড়ছে একের পর এক এলাকায়। একদিকে সৌদি আরবের সমর্থন পাওয়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি।

এবার শুধু কয়েকটি শহর দখলের লড়াই নয়, মূল লক্ষ্য রাজধানী সানা। যেটি ২০১৪ সাল থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে হুথিরা। আর তার চেয়েও বড় লক্ষ্য— লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এ যুদ্ধ কি শুধু ইয়েমেনের ভেতরেই আটকে থাকবে? নাকি এর ঢেউ সৌদি আরব, ইরান এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য পেরিয়ে বিশ্ববাজার পর্যন্ত পৌঁছাবে?

কারণ এবার লড়াইয়ের কেন্দ্রে উঠে এসেছে বাব আল-মান্দাব প্রণালি। এটি এমন একটি জলপথ, যার ওপর নির্ভর করে লোহিত সাগর দিয়ে এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য।

আবার কেন যুদ্ধে ইয়েমেন 

ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে। সে সময় হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এরপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেন সরকারের পক্ষে সামরিক অভিযান শুরু করে।

বছরের পর বছর চলে যুদ্ধ। হাজার হাজার মানুষ নিহত হন। লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হন। দুর্ভিক্ষ ও রোগ ছড়িয়ে পড়ে। ইয়েমেনকে একসময় বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের দেশ বলা হতো।

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত করে। বড় ধরনের লড়াই কমে যায়।

কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান হয়নি। হুতিরা সানা ও দেশের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারও পুরো দেশের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

অর্থাৎ যুদ্ধ থেমেছিল। বিরোধ থামেনি। এখন সেই পুরনো বিরোধই আবার বিস্ফোরিত হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য এবার সানা 

সাম্প্রতিক লড়াইয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ইয়েমেন সরকারের অবস্থানে।

আগে তারা মূলত নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা ধরে রাখার চেষ্টা করত। এবার তারা আক্রমণে গেছে।

তাইজ, আল-বায়দা ও আল-জাওফে লড়াই তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে আল-জাওফ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই অঞ্চলকে সানার দিকে যাওয়ার অন্যতম প্রধান পথ হিসেবে দেখা হয়।

ইয়েমেনের সরকার বলছে, তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য সানা পুনর্দখল করা।

সরকারের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল সামির আল-সাবরি বলেছেন, সানা পুনর্দখলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি বাহিনীর মুখপাত্রও বলেছেন, এবার লক্ষ্য হলো হুতিদের হাত থেকে ইয়েমেনকে মুক্ত করা এবং সানাকে আবার সবার রাজধানী করা।

এটি ছোট কোনো লক্ষ্য নয়। কারণ সানা শুধু একটি রাজধানী নয়। এটি হুতিদের রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির কেন্দ্র।

সানা হারালে হুতিদের অবস্থান বড় ধাক্কা খাবে। কিন্তু এখানেই সমস্যার শুরু। হুতিরা সহজে সরে যাবে না।

হুতিদের শক্তি এখনো বড় 

কয়েক বছর ধরে হুতিরা নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে। তাদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র আছে, ড্রোন আছে। রয়েছে পাহাড়ি এলাকায় যুদ্ধের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা।তাইজ বা আল-জাওফে সরকারি বাহিনী কিছু এলাকা দখল করলেই যুদ্ধ শেষ হবে— এমনটা মনে করছেন না বিশ্লেষকরা।বরং হুতিরা পিছু হটে উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলতে পারে।সাদা, হাজ্জাহ, সানা ও আশপাশের অঞ্চল তখন হুতিদের মূল ঘাঁটিতে পরিণত হতে পারে।সেক্ষেত্রে ইয়েমেন কার্যত দুই বড় অঞ্চলে ভাগ হয়ে যেতে পারে।একদিকে সরকারের নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চল। অন্যদিকে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত উত্তরাঞ্চল।এমন পরিস্থিতি হলে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার বদলে দীর্ঘ হতে পারে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এটি সিরিয়ার মতো দ্রুত পতনের যুদ্ধ হবে না। বরং সুদানের মতো দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সংঘাতে পরিণত হতে পারে। ইয়েমেনের নতুন যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হয়তো সানা নয়। এটা হতে পারে বাব আল-মান্দাব।আফ্রিকা ও আরব উপদ্বীপের মধ্যে এ সরু জলপথ লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। এ পথ দিয়ে জাহাজ যায় ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দিকে।তাই এখানে সামান্য অস্থিরতাও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। হুতিরা এর গুরুত্ব অনেক আগেই বুঝেছে।২০২৩ সাল থেকে তারা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছিল।এখন তারা আবার বাব আল-মান্দাবের দিকে অগ্রসর হতে চাইছে।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বড় সংকট। হরমুজ প্রণালিতে এখন চলাচল মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।এই অবস্থায় সৌদি আরবের জন্য বাব আল-মান্দাবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। হরমুজ যদি বাধাগ্রস্ত হয়, তখন লোহিত সাগরের পথ সৌদি তেল পরিবহনের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।অর্থাৎ দুটি জলপথ একসঙ্গে সংকটে পড়লে সমস্যা শুধু ইয়েমেন বা সৌদি আরবের থাকবে না। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হবে।এর ফলে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি জাহাজ চলাচলের খরচ বাড়তে পারে। বিমা ব্যয় বাড়তে পারে এবং পণ্য পরিবহনেও প্রভাব পড়তে পারে।এরই মধ্যে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কমে গেছে। বাব আল-মান্দাব দিয়েও চলাচলে চাপ তৈরি হচ্ছে।এখানেই এই যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। হুতিরা নিজেদের শুধু ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের অংশ হিসেবে দেখছে না।তারা আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গেও নিজেদের যুক্ত করেছে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সময় লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা চালিয়ে তারা নিজেদের আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে।এখন সৌদি আরবের ভূখণ্ডেও হামলা করছে।মঙ্গলবার সৌদি আরব জানিয়েছে, হুতিদের হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হামলায় দক্ষিণ সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাতেও আগুন ধরে যায়। হুতিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরামকোর স্থাপনা ও একটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ ইয়েমেনের যুদ্ধ যদি আবার সরাসরি সৌদি-হুতি সংঘাতে পরিণত হয়, তাহলে ২০২২ সালের পর তৈরি হওয়া অপেক্ষাকৃত শান্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে।সৌদি আরব বহু বছর ধরে ইয়েমেনে যুদ্ধ করেছে। কিন্তু পরে তারা যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছিল।কারণ এই যুদ্ধ ব্যয়বহুল এবং রাজনৈতিকভাবেও ঝুঁকিপূর্ণ।এখন পরিস্থিতি বদলেছে। হুতিরা যদি সৌদি শহর ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বাড়ায়, তাহলে রিয়াদের পক্ষে চুপ থাকা কঠিন হবে।সৌদি আরব এরই মধ্যে বলেছে, তারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।অর্থাৎ একটি বিপজ্জনক চক্র তৈরি হচ্ছে।হুতিরা সৌদিতে হামলা চালাবে। সৌদি আরব ইয়েমেনে পাল্টা হামলা চালাবে। হুতিরা আরও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়বে। তারপর যুদ্ধ আরও বড় হবে।এই চক্র শুরু হলে সেটি থামানো কঠিন।এই যুদ্ধের আরেক প্রান্তে আছে ইরান। হুতিরা ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ইরানের সহায়তার অভিযোগ বহুদিনের।তবে ইরানের জন্য এখন সময়টা সহজ নয়। দেশটি নিজেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে বড় সংঘাতে জড়িয়ে আছে।ফলে হুতিদের সরাসরি বড় ধরনের সহায়তা দেওয়ার ক্ষমতা সীমিত হতে পারে।তবু বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ, জ্বালানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য হুতিদের কাছে পৌঁছানো অব্যাহত থাকতে পারে।অর্থাৎ ইরান হয়তো সরাসরি ইয়েমেনে যুদ্ধ করবে না। কিন্তু হুতিদের সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহায়তা করতে পারে।এখানে একটি বড় প্রশ্ন আছে। সৌদি আরব ও ইরান সরাসরি সংঘাত এড়াতে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছে।কিন্তু হুতিরা যদি সৌদি ভূখণ্ডে নিয়মিত হামলা চালায়, তখন সেই সমীকরণ নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে।ইরান হুতিদের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ রাখে— এমনটিও বলা যায় না। তবু রিয়াদের কাছে বিষয়টি খুব সরল।তার ভূখণ্ডে হামলা হচ্ছে। জ্বালানি স্থাপনা আক্রান্ত হচ্ছে। বেসামরিক মানুষ আহত হচ্ছে। তাই সৌদি নেতৃত্বের জন্য সামরিক জবাব দেওয়া রাজনৈতিকভাবেও জরুরি হয়ে উঠতে পারে।সবশেষে আবার ফিরে আসতে হয় সেই সরু জলপথে। বাব আল-মান্দাব। এখানেই ইয়েমেনের যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হওয়ার সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা।হুতিরা যদি এই জলপথে নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে পারে, তারা বাণিজ্যিক জাহাজকে ভয় দেখাতে পারবে। জাহাজের চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে পারবে।এমনকি ভবিষ্যতে জলপথ ব্যবহারের জন্য মাশুল আদায়ের চেষ্টাও করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।অন্যদিকে ইয়েমেন সরকারও এই অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে। সৌদি আরবের সমর্থনের এটিও একটি বড় কারণ।কারণ বাব আল-মান্দাব শুধু ইয়েমেনের সম্পদ নয়। এটি সৌদি আরবের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।আর সৌদি তেল যখন হরমুজের ওপর আগের মতো নির্ভর করতে পারছে না, তখন বাব আল-মান্দাবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।এটাই সবচেয়ে ভয়ংকর প্রশ্ন। হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব—দুটি জলপথই যদি বড় ধরনের সংকটে পড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে এর প্রভাব পড়বে।তেলের বাজারে চাপ তৈরি হবে। বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বাড়বে। ইউরোপ ও এশিয়ায় পণ্য পৌঁছাতে বেশি সময় লাগবে।শিপিং কোম্পানিগুলোকে দীর্ঘ পথ বেছে নিতে হতে পারে। সব মিলিয়ে যুদ্ধটি তখন আর শুধু ইয়েমেনের যুদ্ধ থাকবে না।এটি হয়ে উঠবে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য নিরাপত্তার সংকট।এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এটিই। সরকারি বাহিনী আগের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে আছে। তারা এখন বেশি সমন্বিত। তাদের কাছে উন্নত অস্ত্রও রয়েছে।দক্ষিণ ইয়েমেনে আগে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্দখল করার পর সরকারপন্থীরা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়েছে। আগের মতো অনেকগুলো সশস্ত্র গোষ্ঠী আলাদা কমান্ডে নেই।এখন হুতিদের বিরুদ্ধে একটি তুলনামূলক ঐক্যবদ্ধ সামরিক কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এটিই বিজয়ের নিশ্চয়তা নয়। হুতিরা পাহাড়ি যুদ্ধ জানে। তারা দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করেছে। তাদের শক্ত ঘাঁটিও আছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আছে।সবচেয়ে বড় কথা, তারা পিছু হটে আবার সংগঠিত হওয়ার ক্ষমতা রাখে।তাই সানা দখলের লড়াই দ্রুত শেষ হবে— এমন আশা করার কারণ কম।তিনটি সম্ভাবনা এখন সামনে দেখা যাচ্ছে।প্রথমটি হলো, সরকারি বাহিনী দ্রুত অগ্রসর হবে। হুতিরা বড় ধরনের ভূখণ্ড হারাবে। তখন নতুন কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার পথ খুলতে পারে।দ্বিতীয়টি হলো, হুতিরা উত্তরাঞ্চলে সরে গিয়ে নতুন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তখন ইয়েমেন কার্যত দুই শক্তির নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ভাগ হয়ে যাবে।তৃতীয়টি সবচেয়ে ভয়ংকর। যুদ্ধ ইয়েমেনের সীমা ছাড়িয়ে যাবে।সৌদি আরব সরাসরি আরও বড় হামলায় যাবে। হুতিরা সৌদি শহর ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বাড়াবে। ইরানও পরোক্ষভাবে হুতিদের সহায়তা বাড়াবে। একই সময়ে বাব আল-মান্দাব ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।তখন ইয়েমেন আবার মধ্যপ্রাচ্যের বড় যুদ্ধের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই। ইয়েমেন এমনিতেই ভয়াবহ মানবিক সংকটে রয়েছে।লড়াই বাড়লে মানুষ ঘর ছাড়বে। খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাড়বে। হাসপাতালে চাপ বাড়বে।সাহায্য পৌঁছানো কঠিন হবে। নতুন করে বাস্তুচ্যুত হবে হাজার হাজার মানুষ।এরই মধ্যে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে হতাহত ও বাস্তুচ্যুতি বাড়ছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক করছে, নতুন সংঘাত ইয়েমেনের দুর্বল মানবিক পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে পারে।সম্ভবত এটাই সবচেয়ে বড় আশঙ্কা। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ইয়েমেনে স্থায়ী শান্তি আনেনি। শুধু বড় যুদ্ধের গতি থামিয়েছিল।এখন সেই বিরতিও ভেঙে পড়ার পথে। একদিকে সানা পুনর্দখলের স্বপ্ন দেখছে সরকার।অন্যদিকে হুতিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা ধরে রাখতে মরিয়া। সৌদি আরব নিজের নিরাপত্তা ও জ্বালানি স্থাপনা রক্ষা করতে চাইছে।ইরান আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখতে চাইছে। আর মাঝখানে পড়ে আছে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ।তাই সামনে শুধু একটি যুদ্ধের প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হলো, ইয়েমেন কি আবার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে ঢুকে পড়বে?আর যদি বাব আল-মান্দাবও যুদ্ধের অংশ হয়ে যায়, তাহলে সেই যুদ্ধের ঢেউ কত দূর যাবে?হয়তো উত্তরটি ইয়েমেনের পাহাড়ে আর সীমাবদ্ধ থাকবে না। হয়তো তার প্রভাব দেখা যাবে লোহিত সাগরের জাহাজে, সৌদি তেল স্থাপনায়, ইউরোপের বাজারে এবং বিশ্বের জ্বালানি দামে।ইয়েমেনে যুদ্ধ ফিরেছে। কিন্তু এবার তার সীমানা শুধু ইয়েমেন নয়।সূত্র: আল জাজিরা 

ইয়েমেনে হামলাইয়েমেনে যুদ্ধহুতিসৌদি জোট
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    ‘আই অ্যাম অ্যাট গান পয়েন্ট’- বলেছিলেন তাহসিফ

    ‘আই অ্যাম অ্যাট গান পয়েন্ট’- বলেছিলেন তাহসিফ

    কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে শতকোটির কাজ বন্ধ,  এমপি নূরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে শতকোটির কাজ বন্ধ, এমপি নূরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা সংশোধনে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নয়: বিএসইসি চেয়ারম্যান

    মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা সংশোধনে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নয়: বিএসইসি চেয়ারম্যান

    ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে মতপার্থক্য সিপিবিতে

    ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে মতপার্থক্য সিপিবিতে

    দুই ঘণ্টা পরও সারেনি ত্রুটি, বিমান থেকে নামলেন প্রধানমন্ত্রী

    দুই ঘণ্টা পরও সারেনি ত্রুটি, বিমান থেকে নামলেন প্রধানমন্ত্রী

    তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার

    তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার

    ‘তিনটি গুলির আওয়াজ শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখি বাবা মাটিতে পড়ে আছেন’

    ‘তিনটি গুলির আওয়াজ শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখি বাবা মাটিতে পড়ে আছেন’

    আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধর : ডা. জাহিদের ড্যাবের সদস্যপদ স্থগিত

    আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধর : ডা. জাহিদের ড্যাবের সদস্যপদ স্থগিত

    প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, যাত্রায় বিলম্ব

    প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, যাত্রায় বিলম্ব

    ১৯ দিন নিখোঁজ, ফিরে এসে দুই তরুণী জানালেন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কথা

    ১৯ দিন নিখোঁজ, ফিরে এসে দুই তরুণী জানালেন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কথা

    আমাদের এক কৃষ্ণকুমারী ছিল

    আমাদের এক কৃষ্ণকুমারী ছিল

    পার্কওয়ে প্যাকেজিংয়ের আইপিও আবেদন

    পার্কওয়ে প্যাকেজিংয়ের আইপিও আবেদন

    ডিএসইতে শ্রমিক নেই তহবিল আছে, ভাগবাটোয়ারা করে নেন কর্তারা

    ডিএসইতে শ্রমিক নেই তহবিল আছে, ভাগবাটোয়ারা করে নেন কর্তারা

    সুতোয় ঝুলছে ফকিরের ভাগ্য, নতুন আইজিপির আলোচনায় অনেক নাম

    সুতোয় ঝুলছে ফকিরের ভাগ্য, নতুন আইজিপির আলোচনায় অনেক নাম

    টেড হিউজ: প্রান্তর ও ছায়ার মাঝখানে একটি জীবন

    টেড হিউজ: প্রান্তর ও ছায়ার মাঝখানে একটি জীবন















    এবার আসল লড়াই সমুদ্র ঘিরে














    কেন সৌদি আরব এত চিন্তিত












    হুতিরা শুধু ইয়েমেনেই লড়ছে না 














    সৌদি আরবের হিসাবও বদলে যাচ্ছে 
















    ইরানের ভূমিকা কোথায় 












    সৌদি-ইরান সমঝোতা কি ভেঙে যাবে 










    সবচেয়ে বড় ঝুঁকি বাব আল-মান্দাব 














    দুটি প্রণালি একসঙ্গে সংকটে পড়লে কী হবে 










    দ্রুত জয়, নাকি দীর্ঘ যুদ্ধ 














    সামনে কী হতে পারে 
















    যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দেবে কারা 










    শান্তি কি তাহলে আবার দূরে সরে যাচ্ছে