মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি ইরানের
- আলোচনায় না বসলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে হামলা শুরু করব: ট্রাম্প

ছবি: রয়টার্স
ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর আবারও অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরই মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে হামলা শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে টানা পঞ্চম দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা চলার মধ্যেই এলো এসব ঘোষণা।
বুধবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি থাকা বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা বিমান হামলা চালায়।
বুধবার এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বলেছে, ‘আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানি হয় সবার জন্য হবে, নয়তো কারও জন্যই হবে না।’
তারা আরও জানায়, ‘আমেরিকার অকল্যাণের অবসান’ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে আরও ব্যাহত হয়েছে এ নৌপথে জাহাজ চলাচল।
মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলছিলেন, ‘আগামী সপ্তাহে তাদের জন্য পরিস্থিতি খুবই খারাপ হবে। আগামী সপ্তাহে বিদ্যুৎকেন্দ্র আসবে। আগামী সপ্তাহে সেতুগুলো আসবে। তারা আলোচনায় না এলে আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেব। তাদের সব সেতু ধ্বংস করে দেব।’
ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘জ্বালানি-সংক্রান্ত লক্ষ্যবস্তুগুলোকে আমি শেষের জন্য রেখে দেব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা জ্বালানি অবকাঠামোকেও আঘাত করব।’
তিনি দাবি করেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মার্কিন আলোচকরা ইরানি প্রতিনিধিদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন , ‘তোমরা ভালোভাবে একটি চুক্তি করে নাও, না হলে তোমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
এদিকে সহিংসতা বৃদ্ধি এবং নৌপরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় তেলের দাম আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর বুধবারও অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত সপ্তাহে ইরান হরমুজ প্রণালিতে সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় এক ডজন নাবিক নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ইরান বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে বিমান হামলা চালিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৩০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বামপুর সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত সাতজন ইরানি সেনা নিহত হয়েছেন।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বিরোধ পুরো অঞ্চলকে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।




