ইসরায়েলে কেউই পাচ্ছে না সংখ্যাগরিষ্ঠতা

প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট
ইসরায়েলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না কোনো জোটই। এমনটাই জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো।
সংবাদমাধ্যমগুলোর এক্সিট পোলের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট—কারও পক্ষেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
ইরান যুদ্ধের মধ্যে এ নির্বাচনের ফল শুধু ইসরায়েল নয় বিশ্বের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ফলের ওপর নির্ভর করবে নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা বা না থাকা। তার প্রতিদ্বন্দ্বী দল ক্ষমতায় এলে হয়তো যুদ্ধ ফের শুরু নাও হতে পারে, মিলেছে এমন ইঙ্গিত।
ইসরায়েলের দুটি সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আইজেনকোটের ‘ইয়াশার’ পার্টি এবং তার নেতৃত্বাধীন ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর অন্তর্ভুক্ত আরও তিনটি দল মিলে ৫১টি আসন পেতে পারে। নেসেটে আসন সংখ্যা ১২০টি। একই সংখ্যক আসন পেতে পারে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তাদের অতি-ডানপন্থী ও কট্টর ইহুদি মিত্র দলগুলো। তৃতীয় আরেকটি সম্প্রচারমাধ্যমের জরিপে নেতানিয়াহুকে তিন আসনে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে।
নির্বাচনের ফলাফল অনেকাংশেই নির্ভর করবে দুটি আরব দলের ভূমিকার ওপর। ধারণা করা হচ্ছে, তারা রেকর্ড ১৮ বা ১৯টি আসন পেতে পারে।
গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১০টায় যখন ভোট শেষ হয়, তখন ভোটদানের হার ছিল ৭৭.৭ শতাংশ। ১৯৯৯ সালের পর থেকে এ সময় পর্যন্ত যা সর্বোচ্চ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আনুষ্ঠানিক ফলাফল রাত থেকেই প্রকাশ করা শুরু হবে। তবে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের দেওয়া প্রায় ৬ লাখ ভোট আগামীকাল বৃহস্পতিবারের আগে পুরোপুরি গণনা করা সম্ভব হবে না।
ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর এবং সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে, ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট এমন একজন দলীয় নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন, যিনি জোট গঠনে সফল হতে পারেন বলে তিনি মনে করবেন। এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে।
যদি তারা সরকার গঠনে ব্যর্থ হন, তবে শেষ পর্যন্ত দেশটিতে আবারও নির্বাচন আয়োজন করতে হতে পারে।
কী বলছেন নেতানিয়াহু
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর কট্টর ডানপন্থী একটি সরকার গঠন করার কথা বলেছেন নেতানিয়াহু। পাশাপাশি হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন, সরকার গঠন করার ক্ষেত্রে কেউ আরব দলগুলোর দিকে যেন হাত না বাড়ায়।
নেতানিয়াহুর ভাষ্য, ‘আমাদের অবশ্যই ডানপন্থীদের নিয়ে একটি শক্তিশালী সরকার গঠন করতে হবে।’
‘ইহুদি ও জায়নবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’, যোগ করেন লিকুদ পার্টির এ প্রধান।
‘আরব দলগুলোর সমর্থনে কোনো সরকার গঠন করার প্রশ্নই ওঠে না।’
নেতানিয়াহুর স্বভাবসুলভ দীর্ঘ বক্তৃতার তুলনায় এটি ছিল সংক্ষিপ্ত। তিনি সরাসরি জয়ের দাবি করেননি, শুধু উল্লেখ করেছেন, তার দল লিকুদ পার্টি একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইসরায়েলি আরব দলগুলো ভালো ফলাফল করায় বিরোধী জোটের ক্ষমতায় আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। যদিও নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকোট জানিয়েছেন, তিনি এ সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করবেন না।
ভাষণে আইজেনকোট বললেন, বুথফেরত জরিপগুলো নেতানিয়াহুর প্রতি জনগণের আস্থার অভাব স্পষ্ট করে দিয়েছে।
তেল আবিবের একটি মিলনায়তনে উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের সামনে কথা বলার সময় আইজেনকোট ইরানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধ শুরুর হুমকি দেওয়ার জন্য নেতানিয়াহুকে পরোক্ষভাবে সতর্ক করে দেন।
‘নেতানিয়াহু, আপনার রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে ব্যবহার করার দুঃসাহস দেখাবেন না’, বলেন আইজেনকোট।
এদিকে, বুথফেরত জরিপের ফলাফলে আরব ভোটারদের মধ্যে আনন্দ দেখা গেছে। অন্যদিকে হতাশা প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহুর মিত্র কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর সমর্থকরা।




