দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার হুতিদের

হুতির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। ছবি: ভিডিও থেকে
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, ইয়ানবুতে আরামকো স্থাপনা ও দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। গতকাল বুধবার দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ভারতীয়সহ ২ জন নিহত ও অন্তত ৮ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ২ বাংলাদেশিও রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, ‘আল্লাহর রহমতে, গত ৪৮ ঘণ্টায় বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে চারটি বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রথম (অভিযানটি) শত্রুভাবাপন্ন সৌদির রাজধানী রিয়াদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভবনকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। আল্লাহর অশেষ কৃপায় এটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।’
ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘দ্বিতীয় অভিযানটি দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। এর ফলে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তৃতীয় অভিযানটি ইয়ানবু এলাকায় অবস্থিত আরামকো কোম্পানিকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। আল্লাহর অশেষ কৃপায় এটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। হামলার ফলে আক্রান্ত স্থানে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। চতুর্থ অভিযানটি আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। আল্লাহর অশেষ কৃপায় এটিও সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।’
ভিডিও বার্তায় আরও বলা হয়, ‘ইয়েমেনি (হুতি) সশস্ত্র বাহিনী জোর দিয়ে বলছে, ইয়েমেনি গোষ্ঠীদের লক্ষ্যবস্তু করার হুমকির ব্যাপারে শত্রু সৌদির পরিণাম ভোগ করতে হবে। আর যদি তারা এই হুমকি বাস্তবায়ন করে, তবে এর ফলাফল হবে ভয়ংকর ও অপ্রত্যাশিত। আমরা এমন বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব, যা নিতে চাইনি। এর ফলে যে পরিণতি হবে তার জন্য তারাই দায়ী থাকবে।’
বুধবার সন্ধ্যায় দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার পর কিছু মার্কিন কূটনৈতিক কর্মীকে সৌদি আরব ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন।
হুতিরা কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবের বিমান চলাচল এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে অন্তত ২২ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক প্রতি ব্যারেল ১১২ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
সৌদি আরব এই মাসে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে হুতিদের বিরুদ্ধে একটি বোমা হামলার অভিযান ঘোষণা করেছে। ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের সরকার হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত। ওই বছরই দেশের উত্তরের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা রাজধানী সানা দখলে নেয়।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ইয়েমেনের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়। এর পর থেকে দেশটি আবার গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, আগস্ট মাস থেকে এই গৃহযুদ্ধে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় জরুরি নয় এমন সব সরকারি কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরব ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হুতিদের হামলা, ক্রমবর্ধমান বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এবং ভ্রমণের বিঘ্নের কথা উল্লেখ করে এই নির্দেশনার কথা জানান।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার বলেছেন, ওয়াশিংটন বর্তমানে ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না। খুব শিগগিরই কোনো না কোনোভাবে কিছু একটা ঘটতে চলেছে।
এদিকে, দাম্মাম বিমানবন্দরে আহত ২ বাংলাদেশি হলেন কুমিল্লার বাঙ্গরাবাজার থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামের অনুকূল চন্দ্র দাসের ছেলে সজল চন্দ্র দাস এবং নোয়াখালী সদর থানার গোবিগল্লপপুর গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে মোহাম্মদ আব্দুর রহিম। তারা বর্তমানে সৌদি-জার্মান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিনিধি আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন। তারা মূলত গরম ও ধোঁয়ায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। বর্তমানে তারা সুস্থ আছেন এবং দূতাবাস প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছেন। আগামীকাল তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
বাংলাদেশি ছাড়াও আহতদের মধ্যে দুই ভারতীয়, দুই ইয়েমেনি, এক সৌদি ও এক নেপালি নাগরিক রয়েছেন।
তথ্যসূত্র : রয়টার্স ও নিউ ইয়র্ক টাইমস





