যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহু ও সৌদি যুবরাজের ঘনিষ্ঠের সঙ্গে রেজা পাহলভির সাক্ষাৎ

এআই নির্মিত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্য যেন মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কূটনৈতিক বার্তার মঞ্চে পরিণত হলো। একই অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার একদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি, অন্যদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়াসির আল-রুমাইয়ানের সঙ্গেও তাঁর বিরল প্রকাশ্য সাক্ষাৎ ও আলাপ নজর কেড়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এই দুই সাক্ষাৎ মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য নতুন সমীকরণ নিয়ে জোর আলোচনা তৈরি করেছে।
লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণসভা ও দাফন অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। ইরান ইন্টারন্যাশনাল সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের প্রধান এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়াসির আল-রুমাইয়ানকেও রেজা পাহলভির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও সংক্ষিপ্ত আলাপ করতে দেখা যায়। ক্রিশ্চিয়ান ব্রডকাস্টিং নেটওয়ার্ক প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি একে অপরকে আলিঙ্গন করেন এবং কিছুক্ষণ কথা বলেন। একজন শীর্ষ সৌদি কর্মকর্তা ও ইরানের অন্যতম পরিচিত বিরোধী নেতার মধ্যে প্রকাশ্যে এমন সাক্ষাৎ বিরল বলেই মনে করা হচ্ছে। আল-রুমাইয়ান সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের গভর্নর। পাশাপাশি সৌদি আরামকো, ইংল্যান্ডের ফুটবল ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড এবং রিয়াদ এয়ারের চেয়ারম্যানও তিনি।
এই সাক্ষাতের সময়ই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এদিনই ইরাকে ইরান-সমর্থিত শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে যৌথ হামলায় অংশ নেয় সৌদি আরবের সশস্ত্র বাহিনী। মার্কিন বাহিনী ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়।
সৌদি আরব ও ইরান দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। সুন্নি-প্রধান সৌদি আরব এবং শিয়া-প্রধান ইরানের মধ্যে ইয়েমেন ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে সৌদি আরব একাধিকবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার কড়া সমালোচক রেজা পাহলভি দীর্ঘদিন ধরে ইরানে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি দাবি করেন, ‘শাসনব্যবস্থার পতনের পর ক্ষমতার রূপান্তরের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য’ ইরানের জনগণ তাঁকে আহ্বান জানিয়েছে।
এ সপ্তাহে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাহলভি দাবি করেন, ইরানের বর্তমান সরকার ‘পতনের খুব কাছাকাছি’ পৌঁছে গেছে।
তবে যুদ্ধের মধ্যেও তেহরানের সরকার এখন পর্যন্ত টিকে রয়েছে। একই সঙ্গে রেজা পাহলভিও এখনও বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে বা কার্যকর রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উভয়েই ভবিষ্যৎ ইরানি নেতা হিসেবে পাহলভির সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সমর্থনও দেননি।




