ডায়মন্ড হারবারে পুরনো হামলার অভিযোগে অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি : আগামীর সময়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ও তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাত বছরের বেশি পুরনো একটি হামলার ঘটনায় নতুন করে অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস, যিনি ববি নামেও পরিচিত, ডায়মন্ড হারবার থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে দাবি করেছেন, ২০১৮ সালে তার ওপর সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলার নেপথ্যে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগপত্রে জাহাঙ্গির খানসহ ৪০ জনের বেশি তৃণমূল নেতাকর্মীর নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালের ২১ ডিসেম্বর। সে সময় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বিজেপির সভাপতি ছিলেন অভিজিৎ দাস। তার দাবি, ডায়মন্ড হারবারের কপাটহাট মোড়ে একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে গেলে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ঘটনায় তিনি গুরুতর জখম হন। মেরুদণ্ডে আঘাত লাগে, দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয় এবং পরে অস্ত্রোপচারও করতে হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
অভিজিৎ দাসের অভিযোগ, ‘হামলার আশঙ্কার খবর তিনি আগে থেকেই পেয়েছিলেন এবং পুলিশকেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার কথায়, আমি চাইলে সেদিন এলাকা ছেড়ে চলে যেতে পারতাম। কিন্তু দলের দায়িত্বে ছিলাম বলে পিছিয়ে যাইনি। হামলার পর আমাকে প্রায় মৃত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল।’
এতদিন পরে অভিযোগ করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিজেপি নেতা বলেছেন, ‘অতীতে আমি ন্যায়বিচার পাব বলে মনে করিনি। বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে বলেই আবার আইনের দ্বারস্থ হয়েছি।’
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, অভিযোগপত্রে নাম থাকা জাহাঙ্গির খানকে অন্য একটি মামলায় এরই মধ্যে নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থা কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
ঘটনাটি সামনে আসার পর বিজেপি নেতারা দাবি করেছেন, অতীতের রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এফআইআর ঘিরে নতুন বিতর্কের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। সম্প্রতি বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলায় সিআইডির একাধিক সমনেও হাজির হননি তিনি। অভিষেকের দাবি, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন এবং তিনি আইনি পথে লড়াই করছেন।


